মঙ্গলবার, ১৭ই মার্চ, ২০২৬   |   ৪ঠা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী সচল করতে যুক্তরাজ্যসহ মিত্র দেশগুলোকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করার পর বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা নিরসনেই ট্রাম্পের এই কড়া পদক্ষেপ।

ট্রাম্প তাঁর ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাজ্যকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, এই কৃত্রিম সংকট কাটাতে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর উচিত যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যুদ্ধজাহাজ পাঠানো। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ইরানের ১০০ শতাংশ সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করেছে, কিন্তু ড্রোন বা মাইন হামলা ঠেকাতে মিত্রদের সহযোগিতা প্রয়োজন। এছাড়াও নৌপথ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত ইরানের উপকূলরেখায় ‘ভয়াবহ বোমা হামলা’ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের সাথে ট্রাম্পের সম্পর্ক বর্তমানে তলানিতে ঠেকেছে। এর কারণগুলো হল: যুদ্ধের শুরুতে ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে স্টারমারের প্রাথমিক অনীহা ট্রাম্পকে ক্ষুব্ধ করেছিল, ট্রাম্প রাশিয়ার তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পথে হাঁটলেও স্টারমার তাতে সরাসরি মানা করে দিয়েছেন। তাঁর মতে, এটি পুতিনের ‘যুদ্ধ যন্ত্র’কে সহায়তা করবে এছাড়াও মাত্র কয়েক দিন আগেই ট্রাম্প স্টারমারকে উপহাস করে বলেছিলেন যে যুদ্ধের ফল নির্ধারিত হওয়ার পর ব্রিটেনের সহায়তার আর প্রয়োজন নেই। তবে পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় এখন তিনি আবার ব্রিটেনের সাহায্য চাইছেন।

সংঘাতের আঁচ এখন তেল সংরক্ষণাগার গুলোতেও পৌঁছেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরে ইরানি ড্রোন হামলার পর সেখানকার কার্যক্রম আংশিক স্থগিত করা হয়েছে। ইরান হুমকি দিয়েছে যে তাদের তেলের অবকাঠামোতে হামলা হলে তারা ওই অঞ্চলের অন্যান্য তেল কোম্পানিগুলোর ওপরও আঘাত হানবে। বিপরীতে, ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র ‘খারাগ দ্বীপের’ প্রতিটি সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version