২০২৫ সালে একা যাত্রা করে ইউরোপে পৌঁছানো আশ্রয়প্রার্থী শিশুর অনুপাত বেড়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের তিন সংস্থা। গত বছর ইউরোপে পৌঁছানো শিশুদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই কোনো অভিভাবক বা আইনি অভিভাবক ছাড়াই পৌঁছেছে।
একই সঙ্গে মানবপাচারকারীদের শোষণ এবং অভিবাসন পথে সহিংসতার শিকার হওয়ার ঝুঁকি নিয়েও সতর্ক করেছে সংস্থাগুলো।
জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা আইওএম, শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর ও ইউনিসেফ এক যৌথ প্রতিবেদনের সঙ্গে প্রকাশিত বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত বছর মিশ্র অভিবাসন পথে ইউরোপে পৌঁছানো ৩১ হাজার ১০০ শিশুর মধ্যে ২০ হাজারের বেশি কোনো অভিভাবক বা আইনি অভিভাবক ছাড়াই পৌঁছেছে।
আইওএমের মহাপরিচালক অ্যামি পোপ বলেন, নিরাপদে যাত্রার সুযোগ সীমিত থাকায় এবং মানবপাচারকারীদের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হওয়ায় শিশুরা সহিংসতা ও শোষণের বড় ঝুঁকিতে রয়েছে। কোনো শিশুরই একা এসব ঝুঁকির মুখোমুখি হওয়া উচিত নয়।
২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে সমুদ্র ও স্থলপথে বুলগেরিয়া, সাইপ্রাস, গ্রিস, ইতালি, মাল্টা ও স্পেনে পৌঁছানো শিশুর মোট সংখ্যা ২৫ শতাংশ কমেছে। তবে অভিভাবকহীন শিশু হিসেবে নিবন্ধিতদের অনুপাত বেড়ে ৬৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ সালে এই হার ছিল ৫১ শতাংশ।
ইউরোপে পৌঁছানো শিশুদের মধ্যে ৭৮ শতাংশ ছেলে এবং ২২ শতাংশ মেয়ে।
ইতালিতে পৌঁছানো ১৪ হাজারের বেশি অপ্রাপ্তবয়স্কের বেশিরভাগই পূর্ব আফ্রিকা ও বাংলাদেশ থেকে এসেছিল। অন্যদিকে, গ্রিসে পৌঁছানো শিশুদের মধ্যে আফগান ও সিরীয়দের সংখ্যা বেশি ছিল। স্পেনে পৌঁছানো শিশুদের মধ্যে আলজেরিয়া, মরক্কো ও পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোর নাগরিকদের সংখ্যাই বেশি ছিল।
এদিকে ভূমধ্যসাগর, আটলান্টিক মহাসাগরীয় পথ ও পশ্চিম বলকান রুটে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী ৪ হাজার ৬০০-এর বেশি কিশোর ও তরুণের সাক্ষাৎকার নিয়েছে আইওএম।
সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের প্রায় অর্ধেক শারীরিক সহিংসতার শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছে। আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, লিবিয়ায় এসব নির্যাতনের ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব অভিবাসন রুটে নিরাপদে চলাচলের সুযোগ কমে গেলে তরুণরা আরও ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নিতে পারে। এতে তারা মানবপাচারকারীদের ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়বে এবং সহিংসতা, শোষণ ও নির্যাতনের ঝুঁকিও বাড়বে।
জাতিসংঘের তিন সংস্থা চলতি বছরের জুনে কার্যকর হওয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন ও আশ্রয়বিষয়ক চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, এই চুক্তি অভিবাসী, শরণার্থী ও রাষ্ট্রহীন শিশুদের সুরক্ষা জোরদারের সুযোগ তৈরি করেছে।
তবে সংস্থাগুলো বলেছে, শিশুদের বিষয়ে নেওয়া সব সিদ্ধান্তে তাদের সর্বোত্তম স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
অ্যামি পোপ বলেন, ‘শিশুদের সুরক্ষা, তাদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় যত্ন ও সহায়তা দেওয়ার জন্য সীমান্তের বাইরেও কাজ করা আমাদের সবার যৌথ দায়িত্ব।’
