ইতালির মিলানে অনুষ্ঠিত ‘প্যাট্রিয়টস ফর ইউরোপ’ জোটের বিশাল সমাবেশ থেকে অভিবাসন ও জ্বালানি নীতি নিয়ে অত্যন্ত কঠোর ও বিতর্কিত বার্তা দিয়েছেন ইতালির উপ-প্রধানমন্ত্রী ও লিগ নেতা মাত্তেও সালভিনি। ‘মাস্টার্স ইন আওয়ার ওন হোম’ শীর্ষক এই সমাবেশে ইউরোপের প্রভাবশালী উগ্র-ডানপন্থী নেতারা একজোট হয়ে ব্রাসেলসের বর্তমান নীতির তীব্র সমালোচনা করেন।
সালভিনি তাঁর ভাষণে অভিবাসীদের জন্য একটি নতুন ‘পয়েন্ট-ভিত্তিক রেসিডেন্স পারমিট’ চালুর প্রস্তাব দেন। তাঁর মতে, রেসিডেন্স পারমিট বা নাগরিকত্ব কোনো অধিকার নয়, বরং একটি আস্থার বিষয়। ড্রাইভিং লাইসেন্সের মতো এখানেও পয়েন্ট থাকবে; যদি কোনো অভিবাসী অপরাধ করেন বা ইতালির আইন ভঙ্গ করেন, তবে তাঁর পয়েন্ট কাটা যাবে। নির্দিষ্ট সংখ্যক পয়েন্ট হারালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কোনো ছাড় না দিয়ে সরাসরি নিজ দেশে ফেরত পাঠানো বা ‘প্রত্যাবাসন’ করা হবে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, ইতালি শুধুমাত্র সেই সব দেশ থেকেই অভিবাসী নিতে আগ্রহী যাদের সংস্কৃতি ইতালির মূল্যবোধের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
জ্বালানি সংকট নিয়ে ইইউ এবং আইএমএফ-এর কঠোর সমালোচনা করে সালভিনি রাশিয়ার ওপর থেকে গ্যাস ও তেল আমদানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানান। তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের উচিত ‘স্ট্যাবিলিটি প্যাক্ট’ স্থগিত রাখা যাতে ইতালির অর্থ অন্য খাতে ব্যয় না করে নিজেদের মানুষের কল্যাণে খরচ করা যায়। উদাহরণ হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কথা টেনে বলেন, ওয়াশিংটন যদি রাশিয়ার সাথে জ্বালানি বাণিজ্য চালিয়ে যেতে পারে, তবে ব্রাসেলসেরও একই পথে হাঁটা উচিত।
সমাবেশে নেদারল্যান্ডসের গির্ট ওয়াইল্ডার্স মুসলিম দেশগুলো থেকে অভিবাসন সম্পূর্ণ বন্ধের ডাক দেন। ফ্রান্সের জর্ডান বারডেলা এবং স্পেনের সান্তিয়াগো আবাসকালও তাঁদের নিজ নিজ দেশের অভিবাসন বিরোধী অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। এদিকে, প্যাট্রিয়টদের এই সমাবেশের প্রতিবাদে মিলানে কয়েক হাজার মানুষ ‘ফ্যাসিস্ট হঠাও’ স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করেন। পিয়াজ্জা দুয়োমোতে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিক্ষোভকারীদের সাথে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ বাধে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করতে বাধ্য হয়।
