মঙ্গলবার, ২৪ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬   |   ১২ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইতালির স্পন্সর ভিসা বা “ডেক্রেতো ফ্লুসি প্রোগ্রাম বাংলাদেশসহ বহিরাগত কর্মীদের জন্য বছরের পর বছর ধরে কাজের সুযোগ তৈরি করছে। এই কর্মী ভিসা স্কীমটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশগুলোর নাগরিকদের সিজনাল এবং নন‑সিজনাল কাজে নিয়োগ দেয়ার লক্ষ্যে চালু আছে, এবং ২০২২ সালে বাংলাদেশও এই প্রোগ্রামে পুনরায় যোগ দিয়েছিল, ফলে আবেদনকারীর সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যায়।

কিন্তু ‘ক্লিক ডে’নির্দিষ্ট দিনে অনলাইনে কোটা খোলা হয়ে আবেদন নেওয়ার যে পদ্ধতি, তা নানা কারণে জটিলতা তৈরি করেছে। নতুন ইতালীয় আইন অনুযায়ী ওয়ার্ক পারমিট বা নুল্লা ওস্তা পরিষ্কার হওয়ার পরেই দূতাবাস ভিসা সিদ্ধান্ত দিতে পারে, কিন্তু প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষের যাচাই এবং নতুন নিয়মের কারণে আবেদনগুলোর ব্যাকলগ তৈরি হয়েছে। ইতালির আইন ২০২৪ সালের অক্টোবরে পূর্বে দেওয়া নুল্লা ওস্তাগুলোকে পুনঃযাচাইয়ের আওতায় ফেলেছে, যার ফলে আবেদন স্থগিত অবস্থায় দীর্ঘ সময় আটকে আছে।

এই দীর্ঘ প্রক্রিয়া এবং ‘ক্লিক ডে’ ত্রুটির কারণে ইতালি দূতাবাসে হাজার হাজার বাংলা‌দেশি কাজের আবেদনকারীর নুল্লা ওস্তা এখনও যাচাইয়ের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রেস রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রায় ৪০ হাজার পেন্ডিং আবেদন থেকে ইতোমধ্যে প্রায় ৮ হাজার নিষ্পত্তি করা হয়েছে, এবং আরো প্রায় ২০ ,হাজার যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে।

বিভিন্ন নাগরিক ও অভিবাসী সংগঠন বলছে, দীর্ঘ দেরি এবং অনিশ্চয়তার কারণে অনেকে অবচেতনেই অবৈধ শ্রমিক হিসেবে কাজ করার পথে ঝুঁকছে, কারণ তারা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে না পেরে অন্য কৌশল অবলম্বন করছে। ভিসা সুবিধা পেতে অনেকে অনৈতিক এজেন্ট বা দালাল-এর কাছে অর্থ দিয়ে জটিল পদ্ধতি অনুসরণ করছে, যা আইনি ঝুঁকি এবং ভবিষ্যতে নেগেটিভ অভিজ্ঞতা বাড়াচ্ছে।

এই জটিলতার উপর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতালি কর্তৃপক্ষের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করছে এবং দ্রুত ব্যাকলগ নিষ্পত্তির অনুরোধ জানানো হয়েছে যাতে বৈধ আবেদনকারীরা উপযুক্ত সময়ের মধ্যে ফল পেতে পারে। ঢাকাস্থ ইতালি দূতাবাস জানায়, যে শুধুমাত্র সরকারি ফি ও নথিপত্র দিয়েই আবেদন করা উচিত এবং যেকোনও অতিরিক্ত অর্থ দিলে তা ভিসা বাতিল বা আইনি সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

এদিকে ইতালিয়ান দূতাবাস ও স্থানীয় কর্মকর্তারা আবেদনকারীদের সতর্ক করছেন যে ভুয়া ও জাল নথি বা মধ্যস্থকারদের মাধ্যমে আবেদন করার ফলে ভিসা বাতিল হওয়া বা দেরি হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়, এবং এমন কাজ আইনি জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। ইতালিতে মানবপাচার ও অনিয়মিত অভিবাসন রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, এবং যারা ইচ্ছাকৃতভাবে অনৈতিক পথ বেছে নিচ্ছেন তারা আইনি ফলাফলের মুখোমুখি হতে পারেন।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই ‘ক্লিক ডে’ ত্রুটি শুধুমাত্র বৈধ আবেদনকারীদের জন্য অযোগ্যতা নয়, বরং একটি বৃহত্তর অভিবাসন ব্যবস্থার দুর্বলতা ও প্রশাসনিক জটিলতাকে প্রতিফলিত করছে। এটি শ্রমবাজারের অনিয়ন্ত্রিত প্রবাহ তৈরির পাশাপাশি অভিবাসী সম্প্রদায়ের মানসিক ও আর্থিক চাপ বাড়াচ্ছে, এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য সময়োপযোগী প্রশাসনিক সংস্কার ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version