বৃহস্পতিবার, ২৫ই জুন, ২০২৬   |   ১১ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একসময়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধু, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির মধ্যকার সম্পর্ক এখন তলানিতে এসে ঠেকেছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের পর থেকে এই দুই প্রভাবশালী নেতার মধ্যকার তীব্র বাকযুদ্ধ এখন বিশ্বরাজনীতিতে রীতিমতো তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

ইতালির একটি জনপ্রিয় টিভি চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, জি-৭ সম্মেলন চলাকালে জর্জিয়া মেলোনি নাকি তাঁর সাথে একটি ছবি তোলার জন্য রীতিমতো ‘অনুনয়’ বা মিনতি করছিলেন! ট্রাম্পের এমন দাবিকে সম্পূর্ণ ‘বানানো গল্প’ এবং মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী। একই সাথে ট্রাম্পের এই মন্তব্যে তিনি তীব্র ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

ট্রাম্পের এমন ব্যবহারে স্তম্ভিত ও ক্ষুব্ধ মেলোনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁর শত্রুদের প্রতি নরম বা দয়ালু আচরণ করলেও, নিজের আসল মিত্র বা বন্ধুদের সাথে চরম অহংকার দেখান। ট্রাম্পকে শক্ত জবাব দিয়ে মেলোনি সাফ জানিয়ে দেন—”আমি বা ইতালি, আমরা কেউই কখনও কারও কাছে অনুনয় করি না।”

ডোনাল্ড ট্রাম্পও দমে যাওয়ার পাত্র নন; তিনি মেলোনিকে আবার আক্রমণ করে একটি বার্তা দেন। সেখানে ট্রাম্প দাবি করেন, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বর্তমানে নিজের দেশে রাজনৈতিক জনপ্রিয়তার দিক থেকে বেশ খারাপ বা নাজুক অবস্থায় আছেন। আর সেই কারণেই মেলোনি ট্রাম্পের সাথে ‘আবারও বন্ধুত্ব করতে চান’। এই বার্তার পাল্টা জবাবে ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে মেলোনি বলেন, ‘আমার জনপ্রিয়তা নিয়ে আপনার (ট্রাম্পের) মাথা ঘামানোর কোনো প্রয়োজন নেই। আমার পরামর্শ, আপনি বরং নিজেরটাতেই মন দিন।’

বিশ্লেষকদের মতে, মূলত ইরানের বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ ঘোষণার পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করার পর থেকেই এই দুই নেতার দীর্ঘদিনের সম্পর্কে ফাটল ধরে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে পাওয়া এই অপমানের জেরে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র সফরই বাতিল করে দিয়েছেন। আর এই জাতীয় অপমানের দিনে সমস্ত রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির পাশে এসে দাঁড়িয়েছে ইতালির সব রাজনৈতিক দল।

তথ্যসূত্র: দ্য বিসনেস স্ট্যান্ডার্ড 

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version