ইতালির তোসকানা অঞ্চলে অভিবাসীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়ে মোট জনসংখ্যার প্রায় ১২ শতাংশে পৌঁছেছে। দেশটির শ্রমবাজার ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও কম মজুরি, কঠিন শ্রম, সামাজিক বৈষম্য এবং অবৈধ শ্রম দালালি এখনো অভিবাসীদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে রয়েছে।
সম্প্রতি গবেষণা ও পর্যবেক্ষণ সংস্থা-আইডিওএস থেকে প্রকাশিত ও ইতালির প্রভাবশালী শ্রমিক সংগঠন ‘সিজিআইএল’-এর যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে তোসকানায় বসবাসরত বিদেশী নাগরিকের সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ৪০ হাজার। গত তিন বছরে এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যা জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেক বেশি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তোসকানায় অভিবাসীদের হার ইতালির জাতীয় গড়ের চেয়ে উঁচু প্রায় ১২ শতাংশ। সংখ্যাগত দিক থেকে রোমানিয়ান, চীনা ও আলবেনিয়ান অভিবাসীরাই এখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ। বিশেষ করে প্রাতো ও ফ্লোরেন্স শহরে অভিবাসী জনগোষ্ঠীর উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।
গবেষণায় উঠে এসেছে, তোসকানার কৃষি, নির্মাণ এবং ফ্যাশন ও টেক্সটাইল খাতে অভিবাসীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। বিশেষ করে প্রাতোর ফ্যাশন শিল্পে চীনা অভিবাসীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য। তবে একই সঙ্গে এসব খাতে ব্যাপক শ্রম শোষণ ও কম বেতনের চিত্রও সামনে এসেছে।
প্রতিবেদনটি সতর্ক করেছে, কৃষি খাতে অবৈধ শ্রম দালালি ব্যবস্থা, যা ইতালিতে ‘কাপোরালাতো’ নামে পরিচিত, এখনো মারাত্মক আকারে বিদ্যমান। এর ফলে অনেক অভিবাসী ন্যূনতম মজুরি, শ্রমিক অধিকার এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
তোসকানার স্কুলগুলোতে বর্তমানে ৭৩ হাজারের বেশি বিদেশী শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এদের অর্ধেকেরও বেশি ইতালিতেই জন্মগ্রহণ করলেও এখনো তারা ইতালির নাগরিকত্ব পায়নি। এতে করে শিক্ষাজীবন শেষ করার পর কর্মসংস্থান ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে তারা নানা বাধার মুখে পড়ছে।
ইতিবাচক দিক হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রাতো ও ফ্লোরেন্সে বিদেশী নাগরিকদের নিজস্ব ব্যবসা পরিচালনার হার তুলনামূলকভাবে বেশি। রেস্তোরাঁ, ক্ষুদ্র শিল্প, পোশাক কারখানা ও পরিষেবা খাতে তারা স্থানীয় অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছেন।
গবেষণা ও পর্যবেক্ষণ সংস্থা-আইডিওএস ও শ্রমিক সংগঠন সিজিআইএল সতর্ক করে বলেছে, যদি অভিবাসীদের শুধুমাত্র কম বেতনের ও কঠিন শ্রমনির্ভর কাজে সীমাবদ্ধ রাখা হয়, তবে সামাজিক বৈষম্য আরও গভীর হবে। দীর্ঘমেয়াদে এটি সামাজিক সংহতি, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অভিবাসীদের জন্য ন্যায্য মজুরি, আইনি সুরক্ষা, নাগরিকত্ব প্রক্রিয়া সহজ করা এবং দক্ষতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা না গেলে তোসকানার এই ইতিবাচক জনশক্তি ভবিষ্যতে সামাজিক সংকটে পরিণত হতে পারে।
