মঙ্গলবার, ১৭ই মার্চ, ২০২৬   |   ৪ঠা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভূমধ্যসাগরীয় পথে অভিবাসনের ঝুঁকি ও মানবিক সংকট মোকাবিলায় ইতালিতে বিশেষ কার্যক্রম পরিচালনা করছে ইউনিসেফ। সংস্থাটির ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক বছরে ১৫ হাজারেরও বেশি অভিবাসী ও শরণার্থী শিশু, কিশোর-কিশোরী এবং যুবক-যুবতী ইউনিসেফের সুরক্ষা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির আওতায় এসেছে।

ইতালিতে গত বছর ৩,০০০ নাবালক ও নারী ইউনিসেফের ব্যক্তিগত সহায়তা পেয়েছেন। এছাড়া ১,৪০০ জন পিছিয়ে পড়া নাবালক ভাষা শিক্ষা ও ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।২০২৫ সালে সেন্ট্রাল ভূমধ্যসাগরীয় পথ দিয়ে ইতালিতে ৬৬ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রবেশ করেছেন। উদ্বেগের বিষয় হলো, এর মধ্যে প্রায় ১২ হাজারই ছিল সঙ্গীহীন বা অভিভাবকহীন শিশু, যা ২০২৪ সালের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

ভূমধ্যসাগরীয় পথে ইতালি আসার এই রুটটি এখনো বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক পথ হিসেবে পরিচিত। ২০২৫ সালে এই পথে প্রায় ১,৩০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন, যাদের মধ্যে বড় একটি অংশই শিশু।

ইউনিসেফের বিশেষ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘ইউ-রিপোর্ট অন দ্য মুভ’ বর্তমানে ১৯,৬০০ জন গ্রাহককে সেবা দিচ্ছে। গত বছরই ১,১০০-এর বেশি সঙ্গীহীন নাবালক এই প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধন করেছেন। এছাড়া স্বাস্থ্য ও সামাজিক সচেতনতামূলক বার্তার মাধ্যমে সংস্থাটি প্রায় ৭৯ হাজার মানুষের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।

ইতালি কর্মসূচির সমন্বয়কারী নিকোলা দেল’আর্কিপ্রেতে জানিয়েছেন, ২০২৬ সালে তাদের লক্ষ্য আরও বড়। আগামী বছর সরাসরি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ৩০ হাজার মানুষকে এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রায় এক লাখ মানুষকে সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ইউনিসেফ। এই কর্মসূচিতে ইতালির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, নাগরিক সমাজ এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করছে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version