শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬   |   ৩রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অবৈধ প্রবেশ, মানব পাচার ও অননুমোদিত কর্মী নিয়োগের উদ্বেগের কথা জানিয়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য সব ধরনের নতুন ওয়ার্ক পারমিট, শ্রম আমদানি পরিকল্পনা ও লেবার প্রজেক্টের অনুমোদন স্থগিত করেছে লাওস। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া এই স্থগিতাদেশ ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত বহাল থাকবে।

লাওসের শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের গত ৯ সেপ্টেম্বরের এক নির্দেশনার বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যম ‘লাওতিয়ান টাইমস’ গত ১৪ সেপ্টেম্বর এ খবর প্রকাশ করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অবৈধ প্রবেশ, মানব পাচার, অননুমোদিত মধ্যস্বত্বভোগী এবং দেশে আনা কর্মীদের দায় এড়িয়ে যাওয়া নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই এ পদক্ষেপ নিয়েছে মন্ত্রণালয়। তবে বাংলাদেশি নাগরিকদের কেন এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দেশনায় কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট চুক্তির মেয়াদ থাকা এবং সরকারের অনুমোদনপ্রাপ্ত বড় অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পগুলো এই স্থগিতাদেশের আওতামুক্ত থাকবে।

এ আদেশের ফলে কোনো ব্যক্তি, কোম্পানি, নিয়োগকর্তা বা লেবার অপারেটর স্বাধীনভাবে কোনো বাংলাদেশি নাগরিককে নিয়োগের অনুমোদন দিতে পারবে না। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ‘লেবার ভিসা (এলএ-বি২)’ পারমিটের অনুমোদনও বন্ধ থাকবে।

নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করলে জরিমানা, বাধ্যতামূলকভাবে দেশে ফেরত পাঠানো এবং ব্যবসার লাইসেন্স বাতিলের মতো শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে।

অনুমোদন ছাড়া বাংলাদেশি কর্মী আমদানি বা নিয়োগ করলে প্রতি লঙ্ঘনের জন্য শ্রমিকপ্রতি ২৫ লাখ লাও কিপ বা প্রায় ১১০ মার্কিন ডলার জরিমানা দিতে হবে নিয়োগকর্তাকে। অন্য কোনো শ্রম ইউনিটে হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে কর্মী আমদানি করলেও একই পরিমাণ জরিমানা প্রযোজ্য হবে।

অন্যদিকে, অন্য কোনো শ্রম ইউনিটের জন্য বরাদ্দ করা কর্মী ব্যবহার করলে নিয়োগকর্তাকে প্রতি লঙ্ঘনের জন্য শ্রমিকপ্রতি ২০ লাখ লাও কিপ বা প্রায় ৮৯ মার্কিন ডলার জরিমানা করা হতে পারে।

অনুমতি ছাড়া নির্ধারিত কর্মস্থলের বাইরে অন্য কোথাও কাজ করতে গেলে কর্মীদের প্রতি ঘটনায় জনপ্রতি ১০ লাখ লাও কিপ বা প্রায় ৪৪ মার্কিন ডলার জরিমানা এবং ৩০ দিনের মধ্যে দেশত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। এ ক্ষেত্রে দেশে ফেরার যাবতীয় যাতায়াত খরচ সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তা বা লঙ্ঘনকারীকে বহন করতে হবে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, একই ধরনের অপরাধ বারবার করলে জরিমানার পরিমাণ তিন গুণ হতে পারে। পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখিও হতে পারেন সংশ্লিষ্টরা।

বর্তমানে লাওসে কতজন বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন বা এই স্থগিতাদেশে কোন কোন খাত সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবে, তা নির্দিষ্ট করে জানায়নি দেশটির মন্ত্রণালয়। তবে ‘লাওতিয়ান টাইমস’-এর তথ্য অনুযায়ী, লাওসে যাওয়া বাংলাদেশি কর্মীরা সাধারণত নির্মাণ ও উৎপাদন খাতে কাজ করতেন।

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার ৩০০ জন বাংলাদেশি চাকরির জন্য লাওসে যাওয়ার ছাড়পত্র পেয়েছেন।


শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version