পর্তুগালের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা বা এসএনএস-এ আউটসোর্সিং বা এজেন্সির মাধ্যমে আসা চিকিৎসকদের (লোকাম ডক্টরস) নিয়ন্ত্রণে সরকারি ডিক্রি-আইন কার্যকরের দুই মাস পার হলেও, এখনো একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। আর তা হলো—এই চিকিৎসকদের প্রতি ঘণ্টার কাজের জন্য ঠিক কত পারিশ্রমিক দেওয়া হবে।
পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম ‘এসআইসি নোতিসিয়াস’ জানিয়েছে, এজেন্সি চিকিৎসকদের প্রতি ঘণ্টার পারিশ্রমিক নির্দিষ্ট করে আগামী অক্টোবর মাসে একটি বিশেষ অধ্যাদেশ জারি করা হবে। তবে এর আগেই এজেন্সি চিকিৎসকেরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, সরকার যদি তাদের বর্তমান পারিশ্রমিক বা ফি কমিয়ে দেয়, তবে তারা একযোগে গণ-কর্মবিরতিতে যাবেন।
উল্লেখ্য, অতীতে নিয়মিত এসএনএসের চিকিৎসকেরা সরকারি চাকরি ছেড়ে পরদিনই এজেন্সি চিকিৎসক হিসেবে বহুগুণ বেশি পারিশ্রমিকে একই হাসপাতালে কাজ করার যে প্রবণতা গড়ে উঠেছিল, তা বন্ধ করতেই এই নিয়ন্ত্রণ আইন এনেছিল সরকার। কিন্তু পরিকল্পনাটি শুরুতে ব্যাপক বিরোধিতার মুখে পড়ে এবং সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার কথা বলা হয়। তবে এরপর থেকেই পারিশ্রমিক নির্ধারণ নিয়ে এক ধরনের নীরবতা বজায় রেখেছিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
হাসপাতালের পরিচালকরা এখন সব পক্ষের মধ্যে একটি ‘পারস্পরিক সমঝোতা’র ওপর জোর দিচ্ছেন। কারণ সরকারি হাসপাতালগুলো এখনো এই এজেন্সি চিকিৎসকদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, ইতিমধ্যে অনেক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক কম পারিশ্রমিকের মুখে পড়ার ভয়ে সৌদি আরব, দুবাই কিংবা আয়ারল্যান্ডের মতো দেশে পাড়ি জমানোর চেষ্টা করছেন।
চিকিৎসকদের বিভিন্ন ইউনিয়ন বারবার অভিযোগ করে আসছে যে, রাষ্ট্র যদি তার নিজস্ব স্থায়ী স্বাস্থ্যকর্মীদের উপযুক্ত ও সম্মানজনক বেতন দিত, তবে এমন সংকট ও নাটকের সৃষ্টি হতো না। তবে এখন পর্যন্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে সম্পূর্ণ নীরবতা বজায় রেখেছে বলে জানিয়েছে এসআইসি।
