শনিবার, ২৫ই এপ্রিল, ২০২৬   |   ১২ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উন্নত জীবনের আশায় ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ যাওয়ার নেশা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য দিন দিন আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা গত মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত বছর বিশ্বজুড়ে অভিবাসন রুটগুলোতে প্রায় ৮ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন অথবা নিখোঁজ হয়েছেন। এর মধ্যে ইউরোপ অভিমুখী সমুদ্রপথকে বিশ্বের সবচেয়ে ‘প্রাণঘাতী’ রুট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আইওএম-এর মতে, প্রতি ১০টি মৃত্যু বা নিখোঁজের ঘটনার মধ্যে ৪টিরও বেশি ঘটছে এই সমুদ্রপথে।

প্রতিবেদনে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে—ইউরোপে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের উৎস দেশগুলোর তালিকায় সিরিয়াকে পেছনে ফেলে শীর্ষে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। রাজনৈতিক ও নীতিগত পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ভূমধ্যসাগর হয়ে ইউরোপে ঢোকার চেষ্টাকারীদের মধ্যে ২১ শতাংশই এখন বাংলাদেশি। আইওএম-এর মানবিক সহায়তা বিভাগের পরিচালক মারিয়া মোইতা এই পরিসংখ্যানকে ‘সম্মিলিত ব্যর্থতার সাক্ষ্য’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, বহু মানুষ তথাকথিত ‘অদৃশ্য নৌযান ডুবে যাওয়ার’ ঘটনায় হারিয়ে যাচ্ছেন, যাদের কোনো হদিস বা মৃতদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয় না।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত সমুদ্রপথে নিহত অভিবাসনপ্রত্যাশীর সংখ্যা ৮২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে, যার ফলে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার পরিবার। যদিও ২০২৪ সালে মৃত্যুর সংখ্যা ৯ হাজার ১৯৭ ছিল, যা গত বছর কিছুটা কমে ৭ হাজার ৯০৪-এ দাঁড়িয়েছে; তবে আইওএম সতর্ক করেছে যে সহায়তা কমার কারণে অন্তত ১ হাজার ৫০০টি সন্দেহজনক মৃত্যুর ঘটনা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। জীবনবাজি রেখে এই অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে দ্রুত কার্যকর বৈশ্বিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version