সম্ভাব্য বড় ধরনের সামরিক সংকট বা যুদ্ধের আশঙ্কায় সাধারণ নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে একটি যৌথ আন্তঃসীমান্ত পরিকল্পনা তৈরি করছে পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়া। পরিস্থিতি অনুযায়ী, এই পরিকল্পনার আওতায় লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া এবং এস্তোনিয়ার মতো বাল্টিক অঞ্চলের বাসিন্দাদের পোল্যান্ড সীমান্তের ওপারে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।
লিথুয়ানিয়ার জাতীয় সংকট ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের প্রধান ভিলমান্তাস ভিতকাউসকাস জানিয়েছেন, এই প্রস্তাব নিয়ে আনুষ্ঠানিক কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। উভয় দেশের প্রতিনিধিরা বর্তমানে এই স্থানান্তরের আইনি প্রক্রিয়া, লজিস্টিকস এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতা বিশ্লেষণ করছেন। পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর পর এ সংক্রান্ত একটি বিশদ পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে।
লিথুয়ানিয়ায় শুরু হওয়া ‘ভিতিও স্ক্লিয়াউতাস ২০২৬’ (Vyčio Skliautas 2026) মহড়ার অংশ হিসেবে এই পূর্বপ্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। গত ২৫ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এই জাতীয় মহড়া আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে, যার অন্যতম প্রধান ব্যবহারিক দিক হলো বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াটি সরাসরি পরীক্ষা করা।
বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন এবং বেসরকারি সংস্থার প্রায় ৩ হাজার কর্মকর্তা ও প্রতিনিধির পাশাপাশি প্রায় ১ হাজার স্বেচ্ছাসেবী এই মহড়ায় অংশ নিচ্ছেন। এছাড়া পোল্যান্ডের বিভিন্ন সংস্থা থেকে আসা প্রায় ২০ জনের একটি প্রতিনিধি দলও এই প্রস্তুতিতে যোগ দিয়েছে।
মহড়া চলাকালীন সাধারণ মানুষকে দ্রুত সতর্ক করার ব্যবস্থা, সমাবেশ ও নিবন্ধন কেন্দ্র স্থাপন এবং পরিবহনের মাধ্যমে লোকজনকে এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে স্থানান্তরের প্রক্রিয়াগুলো পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে লিথুয়ানিয়ার কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে যে, এটি নিছক সংকট মোকাবিলার একটি প্রশিক্ষণ মহড়া; এর অর্থ এই নয় যে কোনো আসন্ন বিপদের নিশ্চিত আশঙ্কা রয়েছে।
এই স্থানান্তর পরিকল্পনার সবচেয়ে সংবেদনশীল ও কৌশলগত অংশ হলো ‘সুওয়ালকি গ্যাপ’ (Suwałki gap)। পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়াকে যুক্ত করা এই সংকীর্ণ ভূখণ্ডটি মূলত বাল্টিক রাষ্ট্রগুলোকে ন্যাটোর অন্যান্য মিত্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাকি অংশের সঙ্গে স্থলপথে সংযুক্ত করেছে। যেকোনো মারাত্মক সংকটের সময় সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনের পাশাপাশি বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এই পথটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ভিতকাউসকাস বলেন, ‘সামরিক ও কৌশলগত সরবরাহ—উভয় দৃষ্টিকোণ থেকেই সুওয়ালকি গ্যাপের গুরুত্ব অপরিসীম।’
বাল্টিক রাষ্ট্রগুলো থেকে আসা সম্ভাব্য সাধারণ মানুষকে গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে পোল্যান্ডও। গত সেপ্টেম্বরে লিথুয়ানিয়া ও লাটভিয়ার একটি প্রতিনিধি দল বেসামরিক সুরক্ষা এবং আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনার ব্যবস্থা দেখতে পোল্যান্ড সফর করেছিল।
লিথুয়ানিয়ার নিজস্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী, তাদের রাজধানী ভিলনিয়াস থেকে পোল্যান্ড সীমান্তের দিকে চলে যাওয়া প্রধান সড়কটিই হবে মূল উদ্ধার পথ। এর অংশ হিসেবে পোল্যান্ডের পোদলাস্কি অঞ্চলের স্থানীয় প্রশাসন বাল্টিক নাগরিকদের জন্য একটি ট্রানজিট করিডোর হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
