বৃহস্পতিবার, ১২ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬   |   ৩০ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পর্তুগালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক বিতর্ক যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই কট্টর ডানপন্থী রাজনীতিক আন্দ্রে ভেন্তুরা ও তার দল শেগা-কে ব্যঙ্গ ও সমালোচনা করে নতুন একটি শিল্পকর্ম স্থাপন করেছেন আলোচিত পর্তুগিজ শিল্পী বোর্দালো টু।

লিসবনের অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকা মার্তিম মোনিজ–এ স্থাপন করা এই শিল্পকর্মটি মূলত একটি পোর্টেবল টয়লেট, যা চেগা দলের লোগো ও রঙে সাজানো। পোর্টেবল টয়লেটটির ভেতরে রাখা হয়েছে, টয়লেট পেপার, মেঝে, কমোড ও দেয়ালে নকল মল ও আন্দ্রে ভেন্তুরার মুখচ্ছবি সংবলিত কাগজ। এই প্রতীকী উপস্থাপনার মাধ্যমে শিল্পী কট্টর ডানপন্থী রাজনীতির ভাষা ও আচরণকে ‘বর্জ্য’ বা ‘আবর্জনা’ হিসেবে দেখাতে চেয়েছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এই শিল্পকর্মটি স্থাপন করা হয়েছে প্রাসা দো মার্তিম মোনিশ–এ, যা লিসবনের অন্যতম অভিবাসী-সমৃদ্ধ এলাকা। এই অভিবাসী সম্প্রদায়ই দীর্ঘদিন ধরে চেগা দল ও আন্দ্রে ভেন্তুরার রাজনৈতিক বক্তব্যের প্রধান লক্ষ্য। শিল্পী বোর্দালো টু শুক্রবার এই শিল্পকর্মটি প্রকাশ করেন, যা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে আন্দ্রে ভেন্তুরাকে সম্ভাব্য শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে দেখানো হচ্ছে। ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত ভিডিওর ক্যাপশনে বোর্দালো টু লেখেন, পর্তুগালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এখান থেকেই শুরু।

এই বক্তব্যকে অনেকেই ভেন্তুরার বহুল আলোচিত স্লোগান ‘পর্তুগাল লিম্পু বা পরিচ্ছন্ন পর্তুগাল’–এর পাল্টা ব্যঙ্গ হিসেবে দেখছেন। ভিডিওটির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে ‘জোভেম কনজারভাদর দে দিরেইতা’ নামের একটি ব্যঙ্গাত্মক প্রকল্পের লেখা। এই লেখায় অভিবাসন, অপরাধ, রাজনীতি ও ডানপন্থী বক্তব্যকে বিদ্রুপ করে চরম ভাষায় উপস্থাপন করা হয়, যা মূলত শেগা ও ভেন্তুরার বক্তব্যের অনুকরণে লেখা।

বোর্দালো টু-এর আসল নাম আরতুর বোর্দালো। তিনি পরিচিত জনসমাগমস্থলকে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিবাদের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করার জন্য। তার আগের আলোচিত কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে, ২০২৪ সালের আইনসভা নির্বাচনে সংসদের সামনে রাজনীতিকে আবর্জনায় ফেলা, ইসরায়েল–হামাস যুদ্ধের প্রতিবাদে ফিলিস্তিনের পতাকায় লাল রং ঢালা এবং আবাসন সংকট নিয়ে ‘রুয়া দাশ আঁগুশতিয়াশ বা যন্ত্রণার রাস্তা’ নামের ইনস্টলেশন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই শিল্পকর্ম শুধু একজন রাজনীতিককে নয়, বরং ঘৃণা, বিভাজন ও অভিবাসনবিরোধী রাজনীতির পুরো ভাষাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে। নির্বাচনের ঠিক আগে এমন শিল্প-প্রতিবাদ পর্তুগালে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিতর্ককে আরও উসকে দেবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version