ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে নানা কারণে দেশে ফিরে যাওয়া বাংলাদেশি প্রবাসীদের টেকসই পুনর্বাসন ও জীবিকা পুনর্গঠনে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে পর্তুগালের লিসবনে স্থানীয় প্রবাসী সম্প্রদায়ের সাথে এক বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ব্র্যাকের মাইগ্রেশান প্রকল্প “প্রত্যাশা-২” এর অধিনে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে বিদেশ-ফেরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের দেশে ফিরে পুনর্বাসন, পুনঃএকীকরণ এবং জীবিকা পুনর্গঠনে সহায়তা প্রদানের লক্ষে ইউরোপের দেশে দেশে মতবিনিময়ের অংশ হিসেবে পর্তুগাল বাংলা প্রেস ক্লাব ও নোটিসিয়াস বাংলার আয়োজনে(১৫ জুলাই) লিসবনের একটি মিলনায়তনে এই আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, নানা প্রতিকূলতার কারণে প্রতিবছর ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে অনেক বাংলাদেশিকে দেশে ফিরে যেতে হয়। দেশে ফেরার পর তারা যেন নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে পারেন এবং সমাজে মর্যাদার সাথে পুনর্বাসিত হতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
আলোচনায় ‘প্রত্যাশা-২’ প্রকল্পের বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বিদেশ-ফেরত প্রবাসীদের দেশে নামার পর বিমানবন্দর থেকেই জরুরি চিকিৎসা, কাউন্সেলিং ও প্রয়োজনে অস্থায়ী আশ্রয়ের মতো তাৎক্ষণিক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া মানসিক চাপ কাটিয়ে উঠতে দেওয়া হচ্ছে মনোসামাজিক সেবা।
দেশে ফিরে যাওয়া প্রবাসীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে এই প্রকল্পের আওতায় প্রত্যেক অভিবাসীর পরিস্থিতি বিবেচনা করে ব্যক্তিগত পুনর্বাসন পরিকল্পনা তৈরি করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে নতুন ব্যবসা শুরু করার গাইডলাইন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন ও কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে সংযোগ তৈরি করে দেওয়া। একই সাথে পরিবার ও সমাজের সাথে তাদের পুনরায় খাপ খাইয়ে নিতে সামাজিক সহায়তার পাশাপাশি নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে সচেতনতামূলক পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে এই প্রকল্পের মাধ্যমে।
লিসবনের এই মতবিনিময় সভায় পর্তুগালে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসী কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও সাধারণ প্রবাসীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রবাসীদের কল্যাণে ব্র্যাকের এই উদ্যোগকে অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে আখ্যা দেন।
