বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬   |   ১১ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পর্তুগালের রাজধানী লিসবনের বিভিন্ন শহরতলীতে গত সপ্তাহান্তে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত, গোলাগুলি এবং চরম বিশৃঙ্খলার ঘটনার পর ক্ষুব্ধ মেয়র কার্লোস মোয়েদাস লিসবনে অতিরিক্ত পুলিশ অফিসার মোতায়েন করার বিষয়ে সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি দ্রুত পূরণের তাগিদ দিয়েছেন।

পৌর ফায়ারফাইটার দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মেয়র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘তিন মাস আগে এই সরকার আমাকে লিসবনের জন্য অতিরিক্ত ২০০ জন পাবলিক সিকিউরিটি পুলিশ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল; কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা একজন পুলিশও পাইনি। তারা ১০০ জন মিউনিসিপ্যাল পুলিশ দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেটিরও কোনো হদিস নেই। সুতরাং আমাদের কাছে একটি সরকারি প্রতিশ্রুতি রয়েছে এবং আমরা আশা করি এটি দ্রুত বাস্তবায়িত হবে।’

মেয়র স্বীকার করেন যে, বিগত বহু বছরের মধ্যে বর্তমান সরকারই প্রথম লিসবনের নিরাপত্তা জোরদারে এমন একটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল—তবে কেবল প্রতিশ্রুতি দেওয়াই যথেষ্ট নয়, এটি কার্যকর করারও আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১২ মে লিসবন ও পোর্তোর দুই মেয়র কার্লোস মোয়েদাস এবং পেড্রো দুয়ার্তের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টিনিগ্রো ঘোষণা করেছিলেন যে—তাঁর এডি সরকার পোর্তো এবং লিসবনের মেট্রোপলিটন পুলিশ কমান্ডের সুরক্ষায় প্রতিটি ইউনিটে ২০০ জন করে নতুন পুলিশ অফিসার নিয়োগ দেবে।

মেয়র মোয়েদাস বলেন, ‘আমি ইতিপূর্বেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুইস নেভেস-এর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাকে জানিয়েছিলেন যে বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, কিন্তু আমরা এখনও অপেক্ষায় আছি যা সত্যি হতাশাজনক।’

সম্প্রতি লিসবনের ডাউনটাউন বৈক্সা এলাকায় ঐতিহ্যবাহী পর্তুগিজ পেস্ট্রি ‘পাস্তেইস দে নাতা’ কেনার সময় এক নারী পর্যটক গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার উল্লেখ করে মেয়র বলেন, ওই এলাকায় সাময়িকভাবে ‘কিছুটা পুলিশ টহল’ বাড়ানো হয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমরা কেবল সাময়িক টহল বাড়িয়ে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান করতে পারব না। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে স্থায়ীভাবে রাস্তায় নিয়মিত পুলিশ অফিসারদের উপস্থিতি প্রয়োজন।’

পর্যটককে গুলি করা অপরাধী এখনও গ্রেপ্তার না হওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করে মেয়র একে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেন এবং এই ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে ‘কঠোর বিচার’ দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের এমন একটি শহর প্রয়োজন যেখানে আইন-শৃঙ্খলা বজায় থাকবে, আর তা নির্ভর করে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি দৃঢ় আইনের ওপর।’

এই সপ্তাহের শেষভাগে লিসবনের মেয়র স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুইস নেভেস-এর সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন এবং আগামী সপ্তাহে পিএসপি ও মিউনিসিপ্যাল পুলিশের অংশগ্রহণে একটি বিশেষ মিউনিসিপ্যাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সভা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে মেয়র নিজেও অংশ নেবেন।

পর্তুগালের চলমান দাবানল মৌসুমের কারণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্বপদে বহাল থাকা অত্যন্ত জরুরি উল্লেখ করে মেয়র তাঁর ওপর আস্থা প্রকাশ করেন। অন্যদিকে, আলবুফেইরায় মদ্যপ চালকের গাড়ি চাপা দিয়ে পালিয়ে যাওয়া এবং লিসবনের রাতভর সহিংসতায় অন্তত ৮ জন আহত হওয়ার ঘটনার পর দেশজুড়ে নিরাপত্তা বিতর্ক এখন তুঙ্গে রয়েছে। ঠিক এই মোক্ষম সময়েই মেয়রের এই কড়া বার্তা পর্তুগাল সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করল।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version