পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে ২৪ ঘণ্টার ধর্মঘটের ডাক দেওয়ায় পুরো মেট্রো নেটওয়ার্কের ভূগর্ভস্থ ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এর ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী।
মেট্রোপলিতানো দে লিসবোয়া কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, আজ ১৪ অক্টোবর সারাদিনের জন্য মেট্রোর চারটি লাইনই বন্ধ রাখা হয়েছে এবং সব স্টেশনগুলোও তালাবদ্ধ রয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টায় সেবা পুনরায় চালু হওয়ার কথা রয়েছে।
মেট্রোর অপারেশনস ডিরেক্টরেটের (ডিওপি) ব্যবস্থাপকদের প্রতিনিধিত্বকারী ইউনিয়নগুলোর ডাকে এই কর্মবিরতি পালিত হচ্ছে। ইউনিয়নগুলোর দাবি, কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ পোস্ট এবং ট্র্যাকশন অপারেশনকে প্রভাবিত করা দীর্ঘস্থায়ী সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা সতর্ক করে আসলেও এবং বিভিন্ন বৈঠক করেও কোনো সুরাহা হয়নি।
পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন ফেডারেশন ফেকট্রান্স (Fectrans)-এর মতে, ধর্মঘটের এই সিদ্ধান্তটি ‘হুট করে বা হালকাভাবে নেওয়া হয়নি।’ গত ১৩ এপ্রিল স্বাক্ষরিত একটি চুক্তির আওতায় যে প্রতিশ্রুতিগুলো দেওয়া হয়েছিল, মেট্রো কর্তৃপক্ষ তা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ইউনিয়ন। সে সময় ওই চুক্তির কারণেই শ্রমিকেরা তাঁদের পূর্বঘোষিত আন্দোলন স্থগিত করেছিলেন।
শ্রমিকদের উত্থাপিত প্রধান সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে—কর্মী সংকট, অতিরিক্ত সময় কাজের (ওভারটাইম) ওপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরতা, দীর্ঘ শিফট, সুপারভাইজার ও পরিদর্শকদের প্রশিক্ষণে দীর্ঘসূত্রতা এবং ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালনে অবহেলা।
অন্যদিকে মেট্রো ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এই ধর্মঘটকে ‘অযৌক্তিক ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের যুক্তি, এই বিরোধটি প্রায় ১ হাজার ৬০০ কর্মীর মধ্যে মাত্র ১০০ জন কর্মচারীকে ঘিরে এবং সাম্প্রতিক যৌথ দরকষাকষির মাধ্যমে যে অগ্রগতি হয়েছে, ইউনিয়ন তা আমলে নেয়নি।
তবে দিনভর সব ট্রেন চলাচল স্থগিত এবং স্টেশনগুলো বন্ধ রাখতে যে বাধ্য হতে হচ্ছে, তা নিশ্চিত করেছে কোম্পানিটি। সাধারণত লিসবন মেট্রো প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৬টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত তাদের চারটি লাইন—হলুদ, সবুজ, নীল ও লাল রুটে নিয়মিত চলাচল করে। ফলে বুধবার দিনভর লিসবনের যাত্রীদের যাতায়াতের জন্য বাস বা অন্যান্য বিকল্প পরিবহনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
