কর্মপরিবেশের উন্নয়ন ও পেশাগত মর্যাদার দাবিতে লিসবন মেট্রো কর্মীদের ডাকা ২৪ ঘণ্টার ধর্মঘটে আজ বৃহস্পতিবার (৯ই এপ্রিল ২০২৬) কার্যত অচল হয়ে পড়েছে পর্তুগালের রাজধানীর যাতায়াত ব্যবস্থা। চলতি মাসে পরিকল্পিত দুটি বড় ধর্মঘটের মধ্যে এটি প্রথমটি। মেট্রো কর্মীদের এই আন্দোলনের ফলে শহরজুড়ে কয়েক লক্ষ নিয়মিত যাত্রী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। দ্বিতীয় পর্যায়ের এই ধর্মঘটটি আগামী মঙ্গলবার, ১৪ই এপ্রিল পালিত হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
পরিবহন ও যোগাযোগ ইউনিয়ন ফেডারেশনের নেত্রী আনাবেলা কারভালহেইরা জানিয়েছেন, এই আন্দোলন কেবল বেতন বৃদ্ধির জন্য নয়, বরং কর্মীদের পেশাগত সম্মান রক্ষা এবং কাজের সঠিক পরিধি নিশ্চিত করার লড়াই। ইউনিয়নগুলোর অভিযোগ, মেট্রো কর্তৃপক্ষ বর্তমানে যাত্রী ও কর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে অবজ্ঞা করছে। এছাড়া অনেক কর্মীকে তাদের পদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে সেবার মান কমিয়ে দিচ্ছে। ফেকট্রান্স ছাড়াও এসটিটিএম, সিনডেম, সিত্রা এবং সিটেসি এর মতো বড় ইউনিয়নগুলো একযোগে এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।
অন্যান্য সময়ের ধর্মঘটের তুলনায় এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। সালিশি আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই ধর্মঘটের জন্য কোনো ‘ন্যূনতম পরিষেবা’ বা মিনিমাম সার্ভিস নির্ধারণ করা হয়নি। এর ফলে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকার বা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সাধারণত জরুরি প্রয়োজনে কিছু ট্রেন চালু থাকলেও এবার সেই নিশ্চয়তা নেই, যা সাধারণ যাত্রীদের উদ্বেগ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
ইউনিয়ন নেতারা জানিয়েছেন যে, তারা এখনো আলোচনার পথ খোলা রেখেছেন। যদি লিসবন মেট্রো কর্তৃপক্ষ কর্মীদের যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নিয়ে দ্রুত কোনো কার্যকর সমাধান প্রস্তাব করে, তবেই কেবল ধর্মঘট তুলে নেওয়া হতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, মেট্রো কর্তৃপক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে ১৪ই এপ্রিলের দ্বিতীয় দফার ধর্মঘটটিও বহাল রয়েছে। লিসবনবাসীকে আগামী মঙ্গলবারও যাতায়াতের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
