সোমবার, ২৫ই মে, ২০২৬   |   ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নাগরিকত্ব আইন শিথিল করার পর জার্মানিতে পাসপোর্ট পাওয়ার ক্ষেত্রে এক বিশাল জোয়ার তৈরি হয়েছে। জার্মান গণমাধ্যম ‘ভেল্ট আম জনটাগ’ (Welt am Sonntag)-এর এক বিশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটির ইতিহাসে রেকর্ড সংখ্যক অন্তত ৩,০৯,৮৫২ জন মানুষ জার্মানির পাসপোর্ট লাভ করেছেন। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে এই সংখ্যাটি ছিল ২,৯১,৯৫৫ জন। মূলত ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে জার্মানির নাগরিকত্ব আইনে আনা ঐতিহাসিক ও বৈপ্লবিক পরিবর্তনের কারণেই এই সংখ্যাটি ক্রমাগত বাড়ছে।

আইন পরিবর্তনের মূল সুফলসমূহ:

২০২৪ সালের নতুন আইন অনুযায়ী জার্মানি দুটি বড় পরিবর্তন এনেছে, যা অভিবাসীদের জন্য পাসপোর্ট পাওয়া সহজ করেছে:

১. দ্বৈত নাগরিকত্ব: এখন থেকে নিজ দেশের পাসপোর্ট বহাল রেখেই একজন ব্যক্তি জার্মানির পাসপোর্ট বা মাল্টিপল পাসপোর্ট গ্রহণ করতে পারছেন।

২. সময়সীমা হ্রাস: জার্মানিতে স্থায়ীভাবে বসবাসের সময়সীমা ৮ বছর থেকে কমিয়ে মাত্র ৫ বছর করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে নাগরিকত্ব পাওয়ার হার পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ৪৬ শতাংশ বাড়লেও, ২০২৫ সালে এসে প্রবৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ৬ শতাংশ। তবে ২০২৭ সালের দিকে এই সংখ্যায় আরেকটি বিশাল বিস্ফোরণ বা ‘বুম’ (Boom) হতে যাচ্ছে। ২০২২ সালের শুরুতে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর লাখ লাখ ইউক্রেনীয় নাগরিক জার্মানিতে আশ্রয় নেন। ২০২৭ সালের বসন্তকালে তাদের জার্মানিতে বসবাসের ৫ বছর পূর্ণ হবে।

একই সাথে, ইউক্রেনীয়দের জন্য দেওয়া সামষ্টিক সুরক্ষার মেয়াদ ২০২৭ সালের মার্চ মাসে শেষ হতে যাচ্ছে। ফলে নিজেদের আইনি অবস্থান চিরস্থায়ী ও সুরক্ষিত করতে ২০২৭ সালে রেকর্ড সংখ্যক ইউক্রেনীয় নাগরিক ৫ বছরের সংক্ষিপ্ত কোটা ব্যবহার করে জার্মান পাসপোর্টের জন্য আবেদন করবেন বলে স্থানীয় প্রশাসন প্রস্তুতি নিচ্ছে। 

২০১৫-১৬ সালে আসা সিরীয় শরণার্থীদের তুলনায় ইউক্রেনীয়রা জার্মানিতে আসার সাথে সাথে সরাসরি কর্মসংস্থানের অনুমতি এবং পূর্ণ রেসিডেন্সি স্ট্যাটাসের মতো বিশেষ কাঠামোগত সুবিধা পেয়েছিলেন, যা তাদের নাগরিকত্ব পাওয়ার পথকে আরও সহজ করেছে।

২০২৪ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জার্মান নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সর্বোচ্চ ২৮ শতাংশ ছিলেন সিরীয় নাগরিক। এর পরেই দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন তুরস্কের নাগরিকেরা। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের এই নতুন পরিসংখ্যানটি জার্মানির ১৬টি ফেডারেল স্টেটের মধ্যে ১৪টির প্রাথমিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে; বাকি দুটি পূর্ব অঞ্চলের পূর্ণাঙ্গ ডেটা চলে এলে এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: ডি ডব্লিউ 

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version