পর্তুগালের ৫২তম স্বাধীনতা দিবস আজ। ১৯৭৪ সালের ২৫ এপ্রিল সাধারণ নাগরিকদের সমর্থনে এক ঐতিহাসিক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশটিতে ৪১ বছরের দীর্ঘ স্বৈরশাসনের অবসান ঘটে এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। পর্তুগিজ জাতির ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই দিনটিকে পর্তুগিজ ভাষায় ‘দিয়া দো লিবারদাদ’ (স্বাধীনতা দিবস) এবং এই বিপ্লবটিকে ‘দিয়া দো ক্রাবো’ বা ‘কার্নেশন বিপ্লব’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।
দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসন জনগণের মধ্যে চরম অসন্তোষ তৈরি করলে সামরিক বাহিনীর সদস্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সমন্বয়ে গোপনে একটি সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলা হয়েছিল। জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সমর্থনে মাত্র সাত দিনের মাথায় রক্তপাতহীন এক শান্তিপূর্ণ বিপ্লবের মাধ্যমে তৎকালীন স্বৈরশাসক সালাজারের উত্তরসূরি মার্সেলো কেটানোর পতন ঘটে।
দিবসটি পালনে রাজধানী লিসবনসহ দেশজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। আজ সকাল ৯টায় ঐতিহাসিক ‘প্রাসা দি কমার্সিও’তে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজে সশস্ত্র বাহিনীর সালাম গ্রহণ করবেন পর্তুগালের বর্তমান রাষ্ট্রপতি আন্তোনিও হোসে সেগুরো। এরপর পার্লামেন্টে একটি বিশেষ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং সব সংসদ সদস্য অংশ নেবেন। দিবসটির গুরুত্ব বিবেচনায় সংসদে আলোচনার পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দেবেন। ইতোমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা পর্তুগিজ নাগরিকদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
বিকেল ৩টায় রাজধানীর ‘এভিনিদা লিবারদাদ’ বা স্বাধীনতা সরণিতে ঐতিহাসিক র্যালি অনুষ্ঠিত হবে। এতে সেই বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী প্রবীণ সৈনিকরা নেতৃত্ব দেবেন। সাধারণ নাগরিক ও বিভিন্ন সংগঠনের কর্মীরা হাতে জাতীয় পতাকা এবং বিপ্লবের প্রতীক ‘কার্নেশন ফুল’ নিয়ে এই পদযাত্রায় শামিল হবেন। এছাড়া সে সময়কালে ব্যবহৃত সামরিক যানবাহনগুলোও এই র্যালিতে প্রদর্শন করা হবে। লিসবন ও বন্দর নগরী পর্তোসহ বিভিন্ন শহরে কনসার্ট ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, স্বৈরশাসক আন্তোনিও দে অলিভেইরা সালাজার ১৯৩২ সালে ক্ষমতায় বসেন এবং ১৯৩৩ সালের নতুন সংবিধানের মাধ্যমে একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী হন। ১৯৬৮ সালে অসুস্থ হওয়ার আগে পর্যন্ত তিনি দীর্ঘ শাসনকাল পরিচালনা করেন। পরবর্তীতে তার উত্তরসূরি মার্সেলো কেটানো ক্ষমতায় এলেও ১৯৭৪ সালের ২৫ এপ্রিলের ঐতিহাসিক জনবিপ্লবে তার শাসনের অবসান ঘটে।
