ইউরোপীয় অভিবাসন ও আশ্রয় চুক্তির শর্ত পূরণে পর্তুগাল সরকার তাদের অভিবাসী ডিটেনশন সেন্টার বা অস্থায়ী আটক কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা দ্রুত বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে। আগামী জুলাই মাসের মধ্যেই এই সক্ষমতা ৩০০-তে উন্নীত করতে ‘মডুলার কনস্ট্রাকশন’ বা প্রি-ফ্যাব্রিকেটেড অস্থায়ী ঘর ব্যবহার করা হবে। সরকারের এই কঠোর অবস্থান দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসী এবং যারা স্থায়ী হওয়ার অপেক্ষায় আছেন, তাদের ভবিষ্যতের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
পর্তুগালের সহকারী স্বরাষ্ট্র সচিব রুই আর্মিন্ডো ফ্রেইতাস বার্তা সংস্থা লুসাকে জানান, বর্তমানে লিসবন ও পোর্তোতে মাত্র ৮০টি আসন রয়েছে, যা বর্তমান পরিস্থিতির তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। স্থায়ী ভবন নির্মাণের দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে সরকার অস্থায়ী মডুলার ঘর স্থাপনের মাধ্যমে আসন সংখ্যা ৩০০ থেকে ৬০০-তে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। সচিব ফ্রেইতাস স্পষ্ট করেছেন যে, অভিবাসন ব্যবস্থায় সংস্কারের চূড়ান্ত ধাপ হলো ‘প্রত্যাবাসন’। যারা পর্তুগালে থাকার বৈধ শর্ত পূরণ করবেন না, তাদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে সরকার সংসদে নতুন ডিক্রি বা আইন পাসের অপেক্ষায় রয়েছে।
সরকারের এই নতুন পরিকল্পনায় পরিবার ও শিশুদের মাধ্যমে বৈধ হওয়ার সুযোগ সীমিত করার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে পরিবারসহ প্রবেশের সময়ই যোগ্যতা কঠোরভাবে যাচাই করা হবে। তবে একা আসা শিশুদের বহিষ্কার করা হবে না বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। নাগরিকত্ব আইন নিয়েও সরকারের অবস্থান বেশ কড়া; সচিবের মতে, পর্তুগিজ হওয়া মানে কেবল এখানে কাজ করা নয়, বরং এই সংস্কৃতির অংশ হওয়া। যারা কেবল ইউরোপীয় সুবিধার জন্য নাগরিকত্ব পেতে চান, তাদের পথ এখন আরও কঠিন হতে যাচ্ছে।
তথ্যসূত্র: দ্য রেসিডেন্ট
