ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দুটি গুরুত্বপূর্ণ অভিবাসন নির্দেশিকা বা আইন সময়মতো বাস্তবায়ন করতে না পারায় পর্তুগালের বিরুদ্ধে দুটি লঙ্ঘন মামলা করেছে ইউরোপীয় কমিশন (ব্রাসেলস)। মূলত ইউরোপীয় কমিশনের দেওয়া নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এই নিয়মগুলো পর্তুগালের নিজস্ব জাতীয় আইনে যুক্ত করার প্রমাণ বা বিজ্ঞপ্তি দিতে ব্যর্থ হয়েছে লিসবন। এই বিষয়ে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে পর্তুগাল সরকারকে দুই মাস সময় দেওয়া হয়েছে।
প্রথম মামলাটি হয়েছে একক সংশোধনী নির্দেশিকা (২০২৪/১২৩৩) বাস্তবায়ন না করার কারণে। এই আইনের মূল লক্ষ্য হলো ইইউ-বহির্ভূত দেশগুলো থেকে আসা কর্মীদের প্রবেশ সহজ করা এবং ইইউ-এর শ্রম অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বাসস্থান ও কাজের জন্য একক অনুমতির আবেদনের সিদ্ধান্ত সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে নেওয়ার কথা। এই নির্দেশিকাটি পর্তুগালের জাতীয় আইনে যুক্ত করার শেষ সময় ছিল গত ২১ মে।
এই একক নির্দেশিকার অধীনে কর্মীরা চাইলে তাদের নিয়োগকর্তা পরিবর্তন করতে পারবেন, যা কর্মক্ষেত্রে অভিবাসী কর্মীদের শোষণ বন্ধে সাহায্য করবে। এছাড়া এতে কাজের তদারকি, পরিদর্শন, অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা এবং আইনি প্রতিকার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পর্তুগাল এই অগ্রগতির তথ্য কমিশনকে জানাতে পারেনি।
দ্বিতীয় মামলাটি করা হয়েছে আশ্রয়প্রার্থীদের অভ্যর্থনা শর্তাবলী সংক্রান্ত নির্দেশিকা (২০২৪/১৩৪৬) বাস্তবায়নে অবহেলার কারণে। এই নিয়মটি নিশ্চিত করে যে ইইউ-এর সব দেশে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য যেন সমান ও মানসম্মত জীবনযাত্রার সুযোগ থাকে। এই নিয়মটি কার্যকর করার শেষ সময় ছিল গত ১২ জুন।
এই নির্দেশিকার লক্ষ্য হলো বিভিন্ন ইইউ দেশের আশ্রয় ব্যবস্থার মধ্যকার বৈষম্য কমিয়ে আনা। এর ফলে আশ্রয়প্রার্থীরা যেন এক দেশ ছেড়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে অন্য দেশে চলে না যান, তা প্রতিরোধ করা সহজ হবে।
ইউরোপীয় কমিশনের মতে, পুরো ইইউ অঞ্চলের অভিবাসন ও আশ্রয় ব্যবস্থার যথাযথ কার্যকারিতা এবং আইনি নিশ্চয়তা বজায় রাখতে এই নির্দেশিকাগুলোর সময়মতো বাস্তবায়ন অপরিহার্য। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পর্তুগাল এই কাজগুলো শেষ করতে না পারায় কমিশন এই আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে।
তথ্যসূত্র: এসআইসি নোটিসিয়াস
