ইউরোপের দেশ পর্তুগালে নিজের নামের আগে ভুয়া ‘ডক্টরেট’ পদবি ব্যবহার করে প্রবাসীদের সাথে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে এক বাংলাদেশির বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত মো. রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায়। ডেনমার্কের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেছেন এমন মিথ্যা পরিচয় দিয়ে লিসবনে বসবাসরত বাংলাদেশিদের কাছ থেকে লাখ লাখ ইউরো হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে পর্তুগিজ আদালতে দুটি মামলা করা হয়েছে।
কয়েক বছর আগে ডেনমার্ক থেকে পর্তুগালে আসা রফিক তাঁর অফিসের সাইনবোর্ড, ভিজিটিং কার্ড এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় নামের আগে ‘ডক্টর’ পদবি ব্যবহার করতেন। তিনি দাবি করতেন যে, ডেনমার্কের রসকিল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এই উচ্চশিক্ষিত পরিচয় ব্যবহার করে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের আস্থা অর্জন করতেন এবং পরে ব্যবসা বা বিনিয়োগের নামে তাঁদের সাথে প্রতারণা করতেন। তবে রসকিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইমেলের মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে যে, রফিক সেখান থেকে ২০১৮ সালে মাস্টার্স করলেও কোনো পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেননি।
ভুক্তভোগীদের দাবি, রফিকের প্রতারণার ধরন অত্যন্ত সুক্ষ্ম। কেউ তাঁর সাথে ব্যবসা করতে গিয়ে অর্থ খুইয়েছেন, আবার কেউ নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য কাজের ভুয়া চুক্তিপত্র তৈরি করতে গিয়ে প্রতারিত হয়েছেন। মামলার বাদী রবিউল ইসলাম জানিয়েছেন, রফিক তাঁর কোম্পানিতে চাকরির সময় নিজেকে মেধাবী প্রমাণ করতে বারবার পিএইচডির কথা বলতেন। পরে গাড়ি বিক্রির নামে ডাউন পেমেন্ট নিয়েও মাসের পর মাস তাঁকে ঘুরিয়েছেন।
লিসবনের প্রবাসী কমিউনিটির বিভিন্ন অনলাইন গ্রুপে রফিকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন প্রবাসীরা। এই বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে সাংবাদিকদের যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ব্লক করে দেন। ইউরোপীয় আইনে এই ধরণের জালিয়াতি ও প্রতারণার তদন্ত শুরু হলে অভিযুক্তের বড় ধরণের সাজার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
