মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬   |   ৭ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয় স্বাস্থ্যসেবার তথ্যভাণ্ডার হালনাগাদ করার পর পর্তুগালে নতুন করে ১ লাখ ৭ হাজারের বেশি নাগরিককে ফ্যামিলি ডাক্তার (পারিবারিক চিকিৎসক) বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে দেশটিতে ফ্যামিলি ডাক্তারের আওতাভুক্ত সার্বিক নাগরিকের হার ৮৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮৭ শতাংশে পৌঁছেছে। পর্তুগিজ দৈনিক ‘দিয়ারিও দে নোতিসিয়াস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৪ জুলাইয়ের তুলনায় ২৪ আগস্টের সর্বশেষ তথ্যে এই ইতিবাচক পরিবর্তন ধরা পড়েছে।

আগস্টের শেষ নাগাদ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশটির প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় নিবন্ধিত ছিলেন ১ কোটি ৮ লাখ ৭ হাজার ৮৬৭ জন। তাঁদের মধ্যে ১ কোটি ৫ লাখ ৯৯ হাজার ২৫৫ জন ফ্যামিলি ডাক্তারের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হন। যোগ্যদের মধ্যে ৯২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৯৪ জনকে ফ্যামিলি ডাক্তার বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হয়েছে, যা জুলাইয়ের চেয়ে ১ লাখ ৭ হাজার ৪৫৩ জন বেশি।

তবে এখনও ১৩ লাখ ৬৪ হাজার ৫৬১ জন নাগরিক ফ্যামিলি ডাক্তারের সেবা ছাড়াই রয়ে গেছেন। এ ছাড়া তথ্যের গরমিল ও নতুন মানদণ্ডের কারণে আরও ১ লাখ ৬০ হাজার ২০৩ জনকে ফ্যামিলি ডাক্তার পাওয়ার অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

গত ৪ জুলাই কার্যকর হওয়া জাতীয় রোগী নিবন্ধন (RNU)-এর নতুন নিয়মের আওতায় মূলত ভুয়া বা দ্বৈত এন্ট্রি, মৃত ব্যক্তিদের নাম এবং যারা নতুন মানদণ্ড অনুযায়ী আর যোগ্য নন—তাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বিদেশে বসবাসকারী পর্তুগিজ নাগরিকেরাও রয়েছেন, যারা জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (SNS) ব্যবহারের অধিকার বজায় রাখলেও সংশোধিত নিয়মে নিয়মিত ফ্যামিলি ডাক্তারের জন্য আর যোগ্য নন। গত ২৪ আগস্ট পর্যন্ত এই তথ্যভাণ্ডারে মোট ১ কোটি ৯৩ লাখ রেকর্ড সংরক্ষিত ছিল। সেন্ট্রাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব দ্য হেলথ সিস্টেম (ACSS) এই ডেটা পরিচ্ছন্নকরণ প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বলে অভিহিত করেছে।

পর্তুগালের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে ফ্যামিলি ডাক্তারের উপস্থিতিতে বড় ধরনের তারতম্য রয়েছে। উত্তরাঞ্চলে সর্বোচ্চ ৯৮ শতাংশ মানুষ এই সুবিধার আওতায় রয়েছেন। এরপর মধ্যাঞ্চলে ৯৫ শতাংশ, আলেন্তেসোতে ৮৩ শতাংশ এবং আলগারভেতে ৮০ শতাংশ নাগরিকের ফ্যামিলি ডাক্তার রয়েছে।

তবে লিসবন ও তাগুস ভ্যালি অঞ্চলে এই হার সবচেয়ে কম—মাত্র ৭৪ শতাংশ। এই একক অঞ্চলেই ১০ লাখ ৯ হাজার ১৮৫ জন মানুষ এখনো কোনো ফ্যামিলি ডাক্তার পাননি। অবশ্য এই সময়ে লিসবনেই সবচেয়ে বেশি নতুন ৬৫,৪২২ জন মানুষ ফ্যামিলি ডাক্তারের সুবিধার আওতায় এসেছেন, যা ২.৪ শতাংশ বৃদ্ধি।

পর্তুগিজ অ্যাসোসিয়েশন অব জেনারেল অ্যান্ড ফ্যামিলি মেডিসিনের (APMGF) সভাপতি নুনো জাসিন্তো সতর্ক করে বলেন, তালিকা পরিচ্ছন্ন করার ফলে এই সংখ্যা কাগজে-কলমে কিছুটা বাড়তে পারে, কিন্তু বাস্তবে দেশে চিকিৎসকের সংকট দূর হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরও ১০ লাখেরও বেশি মানুষ ফ্যামিলি ডাক্তার ছাড়া থেকে যাবেন।

অন্যদিকে ডক্টরস ইউনিয়নের ফেডারেশনের (Fnam) প্রতিনিধি রাকেল সৌতো জানান, ডেটাবেস স্বয়ংক্রিয়ভাবে হালনাগাদ করতে গিয়ে কিছু প্রযুক্তিগত জটিলতা তৈরি হয়েছে। যেমন—অনেক পরিবারের শিশুদের নাম তাদের মা-বাবার স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট থেকে আলাদা করে অন্য ক্লিনিকে পাঠানো হয়েছে। আবার ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (NIF) বাদ পড়ার কারণে কিছু রোগী ওষুধে সরকারি ভর্তুকি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এছাড়া বিদেশে থাকা নাগরিকেরা ফ্যামিলি ডাক্তার হারানোর কারণে চিকিৎসকদের সাথে রোগীদের দীর্ঘদিনের আস্থার সম্পর্কেও ব্যাঘাত ঘটছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version