পর্তুগালের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। দেশটির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল ইমার্জেন্সি (INEM)-এর কাছে দীর্ঘদিনের বকেয়া পাওনা আদায়ের দাবিতে অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধের ডাক দিয়েছে দেশটির ফায়ার সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন (Liga dos Bombeiros)।
জানা গেছে, প্রাক-হাসপাতাল জরুরি সেবার বিপরীতে সরকারের কাছে দমকল বাহিনীগুলোর পাওনার পরিমাণ বর্তমানে ২০ মিলিয়ন বা ২ কোটি ইউরো ছাড়িয়ে গেছে। দীর্ঘ দেড় বছর ধরে এই বিপুল অর্থ পরিশোধ না করায় অনেক ফায়ার সার্ভিস কর্পোরেশন এখন আর্থিক দেউলিয়াত্বের ঝুঁকিতে রয়েছে, যার ফলে তারা পরিষেবা স্থগিত করার মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছে।
পর্তুগালের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা মূলত আইএনইএম এবং স্থানীয় বম্বেইরো বা দমকল বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় পরিচালিত হয়। ফায়ার সার্ভিসগুলো কেবল অগ্নি নির্বাপণই নয়, বরং দেশের অধিকাংশ অ্যাম্বুলেন্স সেবার গুরুদায়িত্ব পালন করে থাকে। বকেয়া না মেটানোর এই সংকট সাধারণ মানুষের জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তিকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সরকারের অভ্যন্তরীণ প্রশাসন মন্ত্রী দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিলেও বর্তমানে এই পরিস্থিতি পর্তুগিজ প্রশাসনের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই সংকট বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী আনা পাওলা মার্টিন্সের দেওয়া প্রতিশ্রুতিকেও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। সম্প্রতি তিনি আইএনইএম-কে নিজের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এনে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বললেও, মাঠ পর্যায়ের এই অচলাবস্থা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। উদ্ভূত এই সংকট নিরসনে এবং বকেয়া মেটানোর ব্যাখ্যা দিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সংসদীয় তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হতে হবে। বাজেট বরাদ্দ বাড়িয়ে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা না হলে পর্তুগালের জরুরি স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা বড় ধরণের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
