শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬   |   ২৪ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পর্তুগালের আলগার্ভ অঞ্চলে অনাবাসিক বিদেশিদের জরুরি স্বাস্থ্যসেবার ১২ লাখ ইউরোর বেশি বিল বকেয়া পড়ার তথ্য উঠে আসার পর এ সংক্রান্ত খরচ আদায়ে নতুন এক আইন প্রস্তাব করা হয়েছে। দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (এসএনএস) ব্যবহারকারী অনাবাসিক ও অনিয়মিত বিদেশি নাগরিকদের চিকিৎসা ব্যয়ের দায়ভার কে বহন করবে, তা নির্ধারণে পর্তুগিজ পার্লামেন্টে একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম ‘আলগার্ভ ডেইলি নিউজ’-এর বরাতে জানা গেছে, আলগার্ভের সংসদ সদস্য ক্রিস্তোভাঁও নর্তের যৌথ উদ্যোগে ‘বিল ৭৮৬/১৭/২’ নামে এই প্রস্তাবটি দেশটির পার্লামেন্টে জমা দেওয়া হয়েছে।

বিলে প্রস্তাব করা হয়েছে, যেসব ব্যক্তি পর্তুগালে অনিয়মিতভাবে অবস্থান করছেন বা যারা দেশের স্থায়ী বাসিন্দা নন, তাঁদের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবার মাধ্যমে নেওয়া চিকিৎসার ব্যয়ভার নিজেদের বহন করতে হবে অথবা কোনো দায়বদ্ধ সংস্থা বা বিমা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সেই খরচের নিশ্চয়তা প্রমাণ করতে হবে।

দেশটির স্বাস্থ্য কার্যক্রম পরিদর্শন অধিদপ্তর (আইজিএএস)-এর এক নিরীক্ষায় দেখা গেছে, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে আলগার্ভে অনাবাসিক বিদেশিদের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা বাবদ মোট ১২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৫৮ ইউরো বিল বকেয়া রয়ে গেছে। আলোচ্য সময়ে বকেয়া বিলের সংখ্যা ২০২৩ সালের ১৭ হাজার ৭৩৬টি থেকে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ২০২৪ সালে ১৯ হাজার ১১১টিতে দাঁড়িয়েছে।

তবে প্রস্তাবিত বিলে জরুরি, তাৎক্ষণিক ও জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসার নিশ্চয়তা বজায় রাখা হয়েছে। এ ধরনের গুরুতর ক্ষেত্রে চিকিৎসা দেওয়ার পরই কেবল খরচের দায়ভার সংক্রান্ত প্রমাণপত্র বা প্রয়োজনীয় নথি দাখিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

এই প্রস্তাবে চিকিৎসার খরচ পরিশোধে দায়িত্বশীল পক্ষকে শনাক্ত করা এবং অর্থ আদায়ের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে অর্থপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে অগ্রিম অর্থপ্রদান, আর্থিক নিশ্চয়তা বা বিমার বাধ্যবাধকতা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সংসদ সদস্য ক্রিস্তোভাঁও নর্তে বলেন, ‘যার জরুরি, তাৎক্ষণিক বা জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা প্রয়োজন, তাকে অবশ্যই চিকিৎসা দিতে হবে। এটা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। কিন্তু প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া এক বিষয়, আর সেই চিকিৎসার আর্থিক ব্যয়ভার কে বহন করবে তা নির্ধারণ করা এবং বিল পরিশোধ নিশ্চিত করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আলগার্ভে ১২ লাখ ইউরোর বেশি বকেয়া বিল প্রমাণ করে যে এটি কোনো নিছক তাত্ত্বিক বিতর্ক নয়। আমরা একটি পর্যটন অঞ্চল, বিশ্বের জন্য উন্মুক্ত এবং প্রতি বছর লাখ লাখ দর্শনার্থীকে স্বাগত জানাই। ঠিক সে কারণেই আমাদের সুস্পষ্ট নিয়ম এবং কার্যকর ব্যবস্থা থাকা দরকার: যাদের প্রয়োজন তাদের চিকিৎসা দেওয়া এবং যার দায়ভার তার পক্ষ থেকে বিল পরিশোধ নিশ্চিত করা।’

নর্তে জোর দিয়ে বলেন, এই বিলের অর্থ এই নয় যে রোগীদের সবসময় সরাসরি পকেট থেকেই বিল দিতে হবে। বরং এই খরচের দায়ভার কোনো বিমাকারী প্রতিষ্ঠান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজ দেশ কিংবা চুক্তিভিত্তিক যেকোনো দায়বদ্ধ পক্ষের ওপরও বর্তাতে পারে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version