পর্তুগালে আগামী সোমবার থেকে জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে, যার ফলে ডিজেলের দাম অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। পর্তুগিজ দৈনিক ‘কররিও দা মানিয়া’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহে ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে প্রায় ৭.৫ সেন্ট এবং পেট্রোলের দাম প্রায় ৬ সেন্ট বাড়তে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানি কর (ISP)-তে সর্বশেষ যে সমন্বয় করা হয়েছে, এই প্রাক্কলনটিতে তা হিসাব করা হয়েছে।
এই দাম বৃদ্ধি বাস্তবায়িত হলে পর্তুগালে প্রতি লিটার ডিজেলের গড় মূল্য দাঁড়াবে প্রায় ২.২৩১ ইউরো এবং পেট্রোলের দাম হবে প্রায় ২.১২৫ ইউরো। এর মাধ্যমে ডিজেল টানা ষষ্ঠ সপ্তাহের মতো প্রতি লিটার ২ ইউরোর ওপরে অবস্থান করবে। পর্তুগালের এনার্জি অ্যান্ড জিওলজি ডিরেক্টরেট-জেনারেল-এর তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার প্রতি লিটার ডিজেলের গড় দাম ছিল ২.১৫৭ ইউরো এবং পেট্রোলের দাম ছিল ২.০৬৮ ইউরো।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে জ্বালানি তেলের এই ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় এবং রুশ তেল শোধনাগারের ওপর ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার ফলে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহে টান পড়েছে। ইউরোপীয় তেলের প্রধান বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম হামলার আগের ৭০ ডলার থেকে বেড়ে বর্তমানে প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে পর্তুগাল সরকার অতিরিক্ত ভ্যাট রাজস্বের চাপ কমাতে আইএসপি (ISP) কমানোর যে অস্থায়ী ব্যবস্থা রয়েছে, তার মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর জন্য পার্লামেন্টের কাছে অনুরোধ জানানোর পরিকল্পনা করছে। গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টিনিগ্রো জানান, বর্তমান আইএসপি ছাড় প্রতি লিটারে প্রায় ২৩ সেন্ট রয়েছে এবং আগামী সপ্তাহে তা ২৫ সেন্টে উন্নীত হতে পারে।
তবে তিনি সামগ্রিকভাবে তেলের ওপর কর বড় আকারে কমানোর সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, এতে বাজেট ঘাটতি বা সরকারি ঋণ বেড়ে যেতে পারে। এর পরিবর্তে সরকার পেশাদার ডিজেলের ওপর লিটারপ্রতি ১০ সেন্ট ভর্তুকি বছরের শেষ পর্যন্ত বাড়াচ্ছে এবং ট্যাক্সি, ফায়ার সার্ভিস ও সামাজিক খাতের জন্য ৩ কোটি ৮০ লাখ (৩৮ মিলিয়ন) ইউরোর নতুন সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে।
এদিকে প্রতিবেশী দেশ স্পেনের সঙ্গে জ্বালানি মূল্যের ব্যবধান এখনো বেশ স্পষ্ট, যেখানে ভ্যাট ও এক্সাইজ ডিউটি কমানোর কারণে তেল অনেক সস্তা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিশেষ অনুমতিক্রমে স্পেন চলতি গ্রীষ্মে জ্বালানি কর আরও কমিয়ে দেয় এবং জুলাইয়ে ১৫ সেন্ট, আগস্টে ১০ সেন্ট ও সেপ্টেম্বরে ৫ সেন্ট ছাড় দেয়। তবে মুদ্রাস্ফীতি ১৫ শতাংশের বেশি হওয়ায় ডিজেলের ক্ষেত্রে বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে, যার ফলে সেপ্টেম্বরে স্পেনে ডিজেল প্রতি লিটারে ২০ সেন্ট এবং পেট্রোল ৫ সেন্ট কর ছাড় পাচ্ছে।
ইইউর সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, স্পেনে প্রতি লিটার ডিজেল প্রায় ১.৭৯ ইউরো এবং পেট্রোল ১.৮১ ইউরোতে বিক্রি হচ্ছে, যা পর্তুগালের তুলনায় অনেক কম।
অন্যদিকে ফ্রান্সে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফ্রান্সের ১১ শতাংশ ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল বা ডিজেল ফুরিয়ে গিয়েছিল এবং গড় ডিজেল মূল্য প্রতি লিটার ২.৩৭৮ ইউরোতে পৌঁছেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছেন।
