পর্তুগালের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন লিসবন হাসপাতাল বা ‘হসপিটাল দে তোদোস ওস সান্তোস’ নির্মাণ প্রকল্পে বড় ধরনের আর্থিক ধাক্কা খেয়েছে রাষ্ট্র। দেশটির ‘রিকভারি অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স প্ল্যান’ থেকে বরাদ্দকৃত ১০ কোটি ইউরো বা ১০০ মিলিয়ন ইউরো হাতছাড়া হওয়ায় সরকার এখন এই প্রকল্পের মূল চুক্তিটি নিয়ে পুনরায় আলোচনায় বসতে বাধ্য হচ্ছে। সোমবার এই ব্যবস্থাপনা চুক্তি নিয়ে নতুন করে দরকষাকষির জন্য একটি বিশেষ কমিশন নিয়োগ করেছে পর্তুগিজ সরকার।
নির্মাণকাজে অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্বের কারণেই মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই বিশাল অংকের তহবিলটি খোয়া গেছে। এই অর্থটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের অধীনে নির্মাণ সংস্থা ‘মোতা-এঙ্গিল’-এর সাথে স্বাক্ষরিত চুক্তির একটি বড় অংশের অর্থায়নের জন্য নির্ধারিত ছিল। এখন এই ১০ কোটি ইউরোর ঘাটতি পূরণ করতে সরকার বিকল্প অর্থায়নের সমাধান খুঁজছে। পাশাপাশি মোতা-এঙ্গিলকে অর্থ প্রদানের কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা এবং চুক্তির আইনি জটিলতা বা মামলা-মোকদ্দমার ঝুঁকি হ্রাস করা এই নতুন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য হবে।
আর্থিক এই জটিলতা সত্ত্বেও সরকার প্রকল্পটি নিয়ে আশাবাদী। আপাতত ২০২৯ সালের মধ্যে লিসবনের এই অত্যাধুনিক হাসপাতালটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা বজায় রাখা হয়েছে। তবে বিশাল অংকের তহবিল লোকসান হওয়ায় প্রকল্পের মোট ব্যয় এবং সরকারি কোষাগারের ওপর এর প্রভাব কী হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে। পর্তুগালের স্বাস্থ্য খাতের এই মেগা প্রজেক্টটি এখন আইনি ও অর্থনৈতিক উভয় সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে।
