শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬   |   ২৩শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পর্তুগালের আবাসন সংকট এক বা দুটি সরকারি পদক্ষেপে সমাধান করা সম্ভব নয়। এ সংকট মোকাবিলায় কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিক ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন দেশটির রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক কাইশা জেরাল দে ডেপোজিতোসের (সিজিডি) প্রধান নির্বাহী পাওলো মাসেদো।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) লিসবনে ব্যাংকটির আর্থিক ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আবাসন সংকট সমাধানে একটি সংসদের মেয়াদের চেয়েও বেশি সময় লাগতে পারে। পাওলো মাসেদো বলেন, ‘এক বা দুটি পদক্ষেপেই এই সমস্যার সমাধান হবে—এমনটা ভাবার কোনো অর্থ নেই। এটি সমাধানে কয়েক বছর সময় লাগবে।’

তিনি বলেন, পর্তুগালে আবাসনের সরবরাহ বাড়াতে একটি সমন্বিত কৌশল প্রয়োজন। এর মধ্যে সাশ্রয়ী ভাড়ার বাসা, নিয়ন্ত্রিত মূল্যের আবাসন এবং আরও সরকারি আবাসন নির্মাণের উদ্যোগ থাকতে হবে।
শুধু অর্থায়ন ও ঋণের নিশ্চয়তা দিয়ে এ সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর জন্য একাধিক পদক্ষেপ নিতে হবে।

তরুণদের প্রথম বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে সরকারের দেওয়া বন্ধকি ঋণের নিশ্চয়তা কর্মসূচির পক্ষে অবস্থান নেন সিজিডি প্রধান। তবে বাড়ির দাম বাড়ার জন্য এসব কর্মসূচিকে দায়ী করার যুক্তি নাকচ করেন তিনি।

মাসেদো বলেন, ‘আমি বরং আরও বেশি মানুষের আবাসন পাওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়াকে অগ্রাধিকার দেব। আমার বিশ্বাস, বাড়ির দাম বাড়ার কারণ ঋণের নিশ্চয়তা নয়; বরং ৩ লাখ বাড়ির ঘাটতি।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, আগামী দুই বা তিন বছরের মধ্যে প্রয়োজনীয় ৩ লাখ বাড়ি নির্মাণ করা পর্তুগালের পক্ষে সম্ভব হবে না।

সহসাই কমছে না বাড়ির দাম
পর্তুগালে বাড়ির দাম অস্বাভাবিক গতিতে বাড়ছে বলে স্বীকার করেন মাসেদো। তবে আবাসনের সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ব্যবধান কমানো ছাড়া বাড়ির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো কঠিন হবে বলে মনে করেন তিনি।

জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে আবাসন সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত ছয় থেকে সাত বছরে পর্তুগালের জনসংখ্যা ১০ লাখের বেশি বেড়েছে। এতে আগে থেকেই সংকটে থাকা আবাসন বাজারে চাপ আরও বেড়েছে।

তিনি বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত আবাসনের সরবরাহ ও চাহিদার এই ব্যবধান কমছে না—আর আবাসনপ্রত্যাশীদের অধিকাংশই তরুণ—ততক্ষণ বাড়ির দাম কমানো কঠিন হবে।’
এ ছাড়া বিলাসবহুল আবাসনের ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধি আন্তর্জাতিক বাজারের প্রবণতার সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সাশ্রয়ী ভাড়া ও লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তার তাগিদ
পর্তুগালে আরও গতিশীল ও স্থিতিশীল ভাড়ার বাজার গড়ে তোলার আহ্বান জানান সিজিডি প্রধান। তাঁর মতে, বাড়ির মালিকদের ভাড়া বৃদ্ধিসংক্রান্ত নিয়মকানুন নিয়ে আস্থা থাকা জরুরি। এতে তাঁরা ভাড়ার জন্য আরও বেশি বাড়ি বাজারে ছাড়তে উৎসাহিত হবেন।

আবাসনের সরবরাহ ও চাহিদা—উভয় ক্ষেত্রেই লক্ষ্যভিত্তিক কর-সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি নির্মাণ ব্যয় কমানোর পদক্ষেপ নেওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি।

এ ছাড়া নির্মাণ পরিকল্পনা ও অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর গুরুত্ব দেন মাসেদো। তবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে বিভিন্ন পৌরসভার মধ্যে ভিন্নতা থাকতে পারে বলেও স্বীকার করেন তিনি। কর্মস্থলের প্রয়োজনে অন্য এলাকায় যেতে হয় এমন পেশাজীবীদের জন্য বিশেষ আবাসন সুবিধা চালুর পক্ষেও মত দেন তিনি। এ তালিকায় শিক্ষক, পুলিশ কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তরুণদের বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে সরকারি সহায়তা অব্যাহত রাখার ওপরও জোর দেন।

এদিকে ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে সিজিডি ১৪৩ কোটি ৪০ লাখ ইউরো নিট মুনাফা করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও পর্তুগালের আবাসন সংকট কাটাতে কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিক উদ্যোগ প্রয়োজন বলে আবারও উল্লেখ করেন মাসেদো। তাঁর মতে, এসব উদ্যোগের সুফল পেতে সময় লাগবে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version