সম্প্রতি পর্তুগালের অভিবাসন সংস্থা এজেন্সি ফর ইন্টিগ্রেশন, মাইগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম (আইমা) জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশটিতে প্রায় ১,৫৪৩,৬৯৭ জন বিদেশি নাগরিক নিবন্ধিত ছিল, যা ২০১৭ সালের শেষের সঙ্গে তুলনায় প্রায় চারগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
আইমা জনায়, ২০১৭ সালের শেষের দিকে দেশটিতে বিদেশি নাগরিক ছিলেন মাত্র ৪২১,৮০২ জন; ২০২৪ সালে সংখ্যাটি প্রায় চারগুণ হয়েছে। ২০২৩ সালের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় ২,৪০,০০০ জন বেশি। বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে ৭১ % ইতিমধ্যে বাসবাসের অনুমতি পায়। বিশেষ করে ১৮ থেকে ৪৪ বছরের মধ্যে (৭৭ %) এবং তাদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ৫৬.১ %। ভৌগোলিকভাবে অধিকাংশ বিদেশি নাগরিক দেশটির উপকূলীয় এলাকায় বসবাস করছে। বিশেষত রাজধানী লিসবন, ফারো, সেতুবাল ও পোর্তো জেলার অধিবাসীরাই দেশটিতে থাকা বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে প্রায় ৭১.৩ % অংশ (প্রায় ১,১০০,৬৭০ জন)।
দেশটিতে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে, সবচেয়ে বেশি রয়েছে ব্রাজিলীয় নাগরিক, যা সর্বমোটের মধ্যে ৩১.৪ % অংশ নেওয়া। দ্বিতীয় পরিমাণে ভারতীয় উপমহাদেশের নাগরিকরা রয়েছে (৭.৪ %)। এরপর অঙ্গোলা (৬.৯ %) ও ইউক্রেন (৫.৯ %) ।
বছরের শেষের দিকে ২১৮,৩৩২টি বসবাসের অনুমতি ইস্যু করা হয়েছিল, যা ২০২৩ সালের থেকে ৩৪ % কম। পেশাদার কার্যকলাপ ও পর্তুগিজ ভাষাভাষী দেশগুলোর সম্প্রদায়ভূক্ত নাগরিকরা ৫৬.৩ % বসবাসের জন্য অনুমতি পায়। বিনিয়োগের জন্য বসবাসের অনুমতি পায় ২,০৮১টি, যার মধ্যে বেশিরভাগ যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া নাগরিকরা। আন্তর্জাতিক সুরক্ষার জন্য আবেদন করেছিল ২,৬৭৭ জন; এর মধ্যে আফ্রিকার দেশগুলো থেকে (বিশেষ করে সেনেগাল, গাম্বিয়া, অঙ্গোলা) আগত আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল বেশি। শিশুদের আশ্রয়ের জন্য আবেদন গত বছরের তুলনায় ১৫১.৯ % বেড়েছে, ৫০ %–এরও বেশি গাম্বিয়া থেকে আসা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্তুগালে বিদেশি নাগরিক বৃদ্ধির ফলে, দেশটির অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেললেও, একই সঙ্গে তৈরি করছে নীতিগত ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ।
একদিকে বৈদেশিক নাগরিকদের আগমন কর্মসংস্থান, কর আদায় ও জনসংখ্যার ভারসাম্য রক্ষায় সাহায্য করছে, অন্যদিকে চাপ বাড়ছে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাব্যবস্থায়। পর্তুগালে অভিবাসনের এই ঊর্ধ্বগতি শুধু ইউরোপ নয়, বিশ্বজুড়ে চলমান অভিবাসন ধারারই প্রতিফলন, যেখানে উন্নত জীবনের খোঁজে মানুষ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে নতুন সম্ভাবনার দিকে।
