শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬   |   ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পর্তুগাল সরকার বহুল প্রতীক্ষিত শ্রম আইন সংশোধনের খসড়া বিলটি মন্ত্রী পরিষদে অনুমোদন করেছে। গত বৃহস্পতিবার সামাজিক সংলাপে কোনো সমঝোতা ছাড়াই আলোচনা শেষ হওয়ার পর, শ্রম, সংহতি ও সামাজিক নিরাপত্তা মন্ত্রী রোসারিও পালমা রামালহো এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেন। অনুমোদিত এই বিলটি এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রজাতন্ত্রের সংসদে পাঠানো হবে।

মন্ত্রী রামালহো এই সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে জানান যে, ওইসিডি দেশগুলোর মধ্যে পর্তুগালের বর্তমান শ্রম আইন “দ্বিতীয় কঠোরতম”। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান আইনের কারণেই পর্তুগালে উৎপাদনশীলতা ইউরোপীয় গড়ের চেয়ে ২৮% কম এবং মজুরি প্রায় ৩৫% কম। এছাড়া প্রায় ৮ লক্ষ তরুণ পর্তুগিজের দেশত্যাগ এবং নারী-পুরুষের মজুরি বৈষম্য দূর করতে এই পরিবর্তন অপরিহার্য। মন্ত্রীর মতে, একবিংশ শতাব্দীতে শ্রমিকদের অধিকার ও নিশ্চয়তা জোরদার করাই এই আইনের মূল লক্ষ্য।

২০২৫ সালের জুলাই মাসে উপস্থাপিত প্রাথমিক খসড়া থেকে বর্তমান বিলে ৫০টিরও বেশি পরিবর্তন আনা হয়েছে। দীর্ঘ ৯ মাসের আলোচনা প্রক্রিয়ায় সামাজিক অংশীদার, শিক্ষাঙ্গন ও নাগরিক সমাজের অবদান এই বিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে সাধারণ শ্রমিক ইউনিয়ন এর প্রস্তাবিত ১২টি পদক্ষেপ এই বিলে স্থান পেয়েছে। মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, এই সংশোধনী কেবল শ্রম উৎপাদনশীলতাই বাড়াবে না, বরং কোম্পানিগুলোর সক্ষমতা বাড়িয়ে পর্তুগিজ কর্মীদের ইউরোপীয় মানের বেতন প্রদানের পথ সুগম করবে।

সরকার বিলটি পাসের ব্যাপারে আশাবাদী হলেও সংসদে এর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। মন্ত্রী রোসারিও পালমা রামালহো পিএস এবং শেগার মতো বিরোধী দলগুলোকে কোনো পূর্বধারণা ছাড়াই বিলটি খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এটি সরকারের একটি সমন্বিত প্রচেষ্টা। যদি সংসদে বিলটি পাস না হয়, তবে সরকার কর সংস্কার এবং অন্যান্য রাষ্ট্রীয় সংস্কারের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির কাজ চালিয়ে যাবে। মন্ত্রীর ভাষায়, “যদি ফলাফল নেতিবাচকও হয়, তবে সেটা গণতন্ত্রেরই কাজ।”

তথ্যসূত্র: সিস নটিসিয়াস 

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version