শনিবার, ১লা আগস্ট, ২০২৬   |   ১৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পর্তুগালের শ্রমবাজারে নারীরা পুরুষের তুলনায় বেশি শিক্ষিত হলেও আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগে এখনও ব্যাপক বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। দেশটিতে পুরুষদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ সংখ্যক নারী জাতীয় ন্যূনতম মজুরি পান বলে প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন পর্তুগালের শ্রমমন্ত্রী পালমা রামালহো। পর্তুগালের শ্রমবাজারে ‘কর্ম-জীবন ভারসাম্য ও লিঙ্গ সমতা’ বিষয়ক এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই বৈষম্যের চিত্র সামনে আসে।

শ্রমমন্ত্রী রামালহো স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “কাগজে-কলমে আইন থাকা এক জিনিস, আর বাস্তবে তা প্রযোজ্য হওয়া ভিন্ন জিনিস। বর্তমানেও পুরুষদের অনুকূলে বড় ধরনের বেতন বৈষম্য বিদ্যমান।” তিনি যোগ করেন, কর্মজীবনে কম আয়ের এই প্রভাব সরাসরি প্রবীণ বয়সে গিয়ে পড়ে, যার ফলে নারীদের পেনশনের পরিমাণও পুরুষদের তুলনায় অনেক কম হয়।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে পর্তুগালে বর্তমানে পুরুষের চেয়ে নারী ডিগ্রিধারীর সংখ্যা বেশি। তবে করপোরেট ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার শীর্ষ পদে নারীদের উপস্থিতি এখনও নগণ্য। সরকারি খাতের উচ্চপদে ৪০ শতাংশ নারী থাকলেও বেসরকারি খাতে এই সংখ্যা অর্ধেকেরও কম।

পাশাপাশি মাতৃত্বকালীন বা পিতৃত্বকালীন ছুটি নেওয়া নারীদের কর্মক্ষেত্রে চরম বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হয়। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, নারীদের প্রাথমিক ছুটি নেওয়ার গড় সময়কাল পুরুষদের তুলনায় চারগুণ বেশি। শ্রমমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, “গর্ভধারণের ইচ্ছা প্রকাশ বা ছুটিতে যাওয়ার কারণে অনেক নারীকে চাকরিতে না নেওয়া, বরখাস্ত করা বা চুক্তি নবায়ন না করার মতো ঘটনা ঘটছে। ছুটি নেওয়ার কারণে নারীদের চাকরিচ্যুতির সম্ভাবনা পুরুষদের চেয়ে প্রায় পাঁচ গুণ বেশি।”

কর্মজীবন ও পারিবারিক জীবনের ভারসাম্য রক্ষায় পিতামাতার দায়িত্ব সমভাবে বণ্টনের ওপর জোর দিয়েছেন মন্ত্রী। সরকার মাতৃত্বকালীন/পিতৃত্বকালীন ছুটি পূর্ণ বেতনসহ ছয় মাস পর্যন্ত বাড়ানোর সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। তবে এক্ষেত্রে শর্ত থাকবে যে, বর্ধিত ছুটির শেষ দুই মাস বাবা ও মা উভয়কেই ভাগ করে নিতে হবে।

তথ্যসূত্র: এসআইসি নোটিসিয়াস 

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version