রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬   |   ৩রা কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডেঙ্গু, জিকা, চিকুনগুনিয়া ও ইয়েলো ফিভারের মতো ভাইরাস ছড়াতে সক্ষম এডিস অ্যালবোপিকটাস প্রজাতির মশা পর্তুগালের ৪০টি পৌরসভায় শনাক্ত হয়েছে।

তবে দেশটির স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (ডিজিএস) বলছে, মশার উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার অর্থ এই নয় যে সেখানে রোগজীবাণু রয়েছে বা স্থানীয়ভাবে ভাইরাস ছড়াচ্ছে। এখন পর্যন্ত পর্তুগালে স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ভেক্টর সার্ভেইল্যান্স নেটওয়ার্কের (রিভাইভ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরু থেকে দেশটিতে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ১৮ জন এবং চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত চারজন শনাক্ত হয়েছেন। তবে তাঁদের সবাই বিদেশে সংক্রমিত হয়েছেন।

এদিকে, মাঠপর্যায়ে সংগ্রহ করা মশার নমুনা পরীক্ষা করেও এসব ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। জনসাধারণের অভিযোগের পর ব্রাগা ও আমরেস পৌরসভায় সম্প্রতি যেসব মশা শনাক্ত হয়েছে, সেগুলোর নমুনা পরীক্ষাতেও ভাইরাসের অস্তিত্ব মেলেনি।

এ পরিস্থিতিতে আক্রান্ত ৪০টি পৌরসভাকে ‘লেভেল ১’ বা হলুদ সতর্কতার আওতায় রেখেছে ডিজিএস। এর আওতায় মশার বিস্তার নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ এবং প্রজননস্থল ধ্বংস করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে উচ্চ ঝুঁকির জন্য ‘কমলা’ কিংবা প্রাদুর্ভাবের জন্য ‘লাল’ সতর্কতা জারির প্রয়োজন হয়নি।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব
জলবায়ু পরিবর্তন ও তাপমাত্রা বৃদ্ধি এডিস অ্যালবোপিকটাস প্রজাতির মশার বিস্তার এবং নতুন এলাকায় স্থায়ীভাবে বসতি গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করছে। ইউরোপের অন্যান্য দেশেও একই প্রবণতা দেখা গেছে।

বিদেশ থেকে আসা সংক্রমণের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমাতে বাসিন্দাদের সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।

এ জন্য ফুলের টবের নিচের পাত্র, বালতি ও নালায় জমে থাকা পানি সরিয়ে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মশা প্রতিরোধক ব্যবহার এবং মশার সম্ভাব্য উপস্থিতি দেখলে ‘মসকিউটোওয়েব’ ও ‘মসকিউটো অ্যালার্ট’-এর মতো ওয়েবসাইটে তা জানানোর আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version