নিজের ব্যক্তিগত বাড়ি এবং পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে আসা ‘সরাসরি হুমকির’ তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টেনেগ্রো। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এক বিক্ষোভকারীকে প্রধানমন্ত্রীর বাড়ির ঠিকানা খুঁজে বের করে সেখানে ইট মারার এবং আগুন দেওয়ার প্রকাশ্য আহ্বান জানাতে দেখা যায়।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) লিসবনে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়। রাতের বেলা ধারণ করা ওই ভিডিওতে দেখা যায়, পর্তুগালের আবাসন সংকটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক সমাবেশে ব্রাজিলের টানে পর্তুগিজ ভাষায় কথা বলা এক ব্যক্তি জনতার উদ্দেশে বক্তব্য দিচ্ছেন।
বক্তব্য দেওয়ার সময় ওই ব্যক্তি বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রীর ঠিকানা খুঁজে বের করতে হবে এবং একটি ইট ছুড়ে মারতে হবে।’ তিনি আরও দাবি করেন যে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ দিয়ে আর কোনো কাজ হবে না। ওই ব্যক্তি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, ‘ব্যাস, অনেক হয়েছে! শান্তিপূর্ণ এসব অর্থহীন বিষয়ের দিন শেষ। এবার আমাদের কিছু একটা পোড়াতে হবে।’
সিএনএন পর্তুগালের তথ্য অনুযায়ী, ভিডিওটি ঠিক কখন ও কোথায় ধারণ করা হয়েছিল তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে সরকারের ধারণা, পোর্তোয় সাম্প্রতিক আবাসন আন্দোলনের কোনো এক সমাবেশ থেকেই এই বক্তব্য এসেছে।
ব্রাসেলসে ইউরোপীয় কাউন্সিলের বৈঠকে অংশ নেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী মন্টেনেগ্রো এই ফুটেজের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, এই বক্তব্যটিতে সরাসরি সহিংসতার ডাক দেওয়া হয়েছে এবং অন্যান্য দেশে দেখা যাওয়া সংঘাতের প্রবণতা পর্তুগালে আমদানি করার চেষ্টা চলছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিক্ষোভের নামে খোদ ‘প্রধানমন্ত্রীর বাড়ি এবং তাঁর পরিবারকে’ সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়েছে।
এই হুমকির কঠোর সমালোচনা করলেও প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান যে দেশের আবাসন সংকট নিয়ে সাধারণ মানুষের হতাশা প্রকাশ এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের গণতান্ত্রিক অধিকারকে তিনি সবসময় সম্মান করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পুরোপুরি বুঝি যে মানুষ সমস্যার সমাধান চায়। সব বিষয়ে, বিশেষ করে আবাসন নিয়ে ক্ষোভ, উদ্বেগ ও রাজনৈতিক মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে আমরা পূর্ণ সম্মান জানাই।’ তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে সরকারের নীতির প্রতি অসন্তোষ কোনোভাবেই সহিংসতার উসকানি দেওয়ার যৌক্তিক কারণ হতে পারে না।
একই সঙ্গে আবাসন সংকট মোকাবিলায় নিজের সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন মন্টেনেগ্রো। তিনি জানান, দেশের ‘রিকভারি অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স প্ল্যান’ (PRR)-এর আওতায় সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বাড়ি নির্মাণ ও সংস্কারের লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ৫৯ হাজারে উন্নীত করা হয়েছে। আবাসন নির্মাণ ত্বরান্বিত করতে পরিকল্পনা ও নির্মাণ নীতিমালায় বড় ধরনের সংস্কার আনা হয়েছে।
এ ছাড়া তরুণদের বাড়ি কেনায় সহায়তার জন্য ৩৫ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে সম্পত্তি হস্তান্তর কর (IMT) এবং স্ট্যাম্প ডিউটি পুরোপুরি মওকুফ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রথমবার বাড়ি ক্রেতাদের জন্য সম্পূর্ণ মূল্যের ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টির ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
পর্তুগালজুড়ে তীব্র বাড়িভাড়া বৃদ্ধি, সম্পত্তির চড়া দাম এবং সাশ্রয়ী আবাসনের আকালের কারণে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই এই হুমকি ও রাজনৈতিক উত্তেজনা সামনে এল।
