পর্তুগালে সামগ্রিক দারিদ্র্যের হার কিছুটা কমলেও দেশটির একটি বিশাল জনগোষ্ঠী এখনো পুরোপুরি রাষ্ট্রীয় সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। পর্তুগালের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘নোভা স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিক্স’ (Nova SBE)-এর সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদনে দেশটির সামাজিক নিরাপত্তা ও দারিদ্র্যের ভয়াবহ চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। এতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, যদি পর্তুগাল সরকার সব ধরণের সামাজিক ভাতা বা আর্থিক অনুদান বন্ধ করে দেয়, তবে দেশের দারিদ্র্যের ঝুঁকি একলাফে ৪০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। অর্থাৎ, সরকারি সহায়তা ছাড়া দেশের প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষের জীবনযাপন করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, পর্তুগালের সামাজিক নিরাপত্তা খাতের সবচেয়ে বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ‘বার্ধক্যকালীন পেনশন’। দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৫ শতাংশের বেশি মানুষ এই পেনশনের সুবিধা পেয়ে থাকেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, এই সরকারি পেনশন পাওয়ার পরও পর্তুগালে বর্তমানে ৫ লক্ষাধিক প্রবীণ বা বয়স্ক মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছেন। ৩০ শতাংশ বয়স্ক মানুষ ব্যাংকের ঋণ ছাড়া যেকোনো ধরণের আকস্মিক বা জরুরি খরচ মেটাতে সম্পূর্ণ অক্ষম। এছাড়া ৩৭ শতাংশ প্রবীণ মানুষের পুরোনো বা ভাঙা আসবাবপত্র পরিবর্তন করার মতো ন্যূনতম আর্থিক সামর্থ্য নেই।
প্রবীণদের পাশাপাশি দেশটির বেকার জনসংখ্যার এক বিশাল অংশ চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে ৪২ শতাংশের বেশি বেকার মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে রয়েছেন। তবে ইতিবাচক দিক হলো, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পর্তুগালে বেকারত্বের হার কমছে এবং ২০২৫ সালে এই হার ছিল মাত্র ৬ শতাংশ।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আপাতদৃষ্টিতে পর্তুগালের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের সূচক ইতিবাচক মনে হলেও, দেশের ভেতরে এক বিশাল সামাজিক বৈষম্য রয়ে গেছে। রাষ্ট্র যদি তার সামাজিক কল্যাণকামী ভূমিকা বা আর্থিক অনুদান দেওয়া থেকে সামান্যতম পিছু হটে, তবে দেশটির প্রবীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এক চরম মানবিক সংকটের মুখে পড়বে।
তথ্যসূত্র: সিস নোটিসিয়াস
