পর্তুগালকে একটি সুসংহত ও বৈষম্যহীন দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সীমান্ত ও দেশের ভেতরের অবহেলিত অঞ্চলগুলোর জনসংখ্যা হ্রাস, বার্ধক্য এবং ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু থেকে দূরত্বজনিত সমস্যাগুলো দূর করতে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ‘আরও বেশি মনোযোগ ও বিনিয়োগ’-এর আহ্বান জানিয়েছেন পর্তুগালের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও জোসে সেগুরো।
রবিবার ভিয়ানা দো কাস্তেলো জেলার ভিলা নোভা দে কারভেইরা পৌরসভার আন্তর্জাতিক আর্ট বায়েনাল পরিদর্শনকালে দেওয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট এই তাগিদ দেন।
তিনি বলেন, ‘একটি সুসংহত দেশের শক্তি কেবল তার বড় বড় শহরের ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে পরিমাপ করা যায় না, বরং তা পরিমাপ করা হয় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রাণশক্তি ও সক্রিয়তা দিয়ে।’
প্রেসিডেন্ট সেগুরো বলেন, ‘পর্তুগালের এমন কিছু সমাজ ও সম্প্রদায় প্রয়োজন যা টিকে থাকবে, নিজেদের নতুন করে সাজাবে, বিদেশ থেকে আসা মানুষদের আকৃষ্ট করবে এবং যারা নিজ জন্মভূমিতে থেকে যেতে চায় তাদের চলে যেতে দেবে না।’
তিনি উল্লেখ করেন যে—জনসংখ্যা হ্রাস, বার্ধক্য এবং নীতিনির্ধারণী কেন্দ্র থেকে ভৌগোলিক দূরত্ব—সীমান্তবর্তী ও দেশের ভেতরের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলো প্রতিনিয়ত এই চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি হচ্ছে। ভিলা নোভা দে কারভেইরা-র মতো এলাকাগুলোর সার্বিক উন্নয়নে কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত স্থানীয় সরকার ও প্রশাসনের ওপর আরও বেশি আস্থা রাখা এবং বেশি বিনিয়োগ করা। কারণ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাই তাদের জনগণের চাহিদা ও সমস্যাগুলো সবার চেয়ে ভালো বোঝেন।
পৌরসভাটির প্রশংসা করে প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘জনসংখ্যা কম হওয়ার মানে এই নয় যে আপনাদের স্বপ্ন বা লক্ষ্য ছোট। ভিলা নোভা দে কারভেইরা তার অন্যতম বড় উদাহরণ।’ তিনি এই অঞ্চলের ঐতিহাসিক দুর্গ ও সমকালীন চিত্রশিল্পের মেলবন্ধনের দ্বৈত সংস্কৃতির ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘এই সীমান্ত এলাকাটি বিভাজনের সীমান্ত নয়, বরং এটি দুই দেশের মানুষকে যুক্ত করার একটি সুন্দর সেতু।’
প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করে বলেন, তিনি দেশের প্রতিটি দৈনন্দিন বিষয়ে মন্তব্য করতে পছন্দ করেন না, তবে যখনই তিনি কোনো বিষয়ে মুখ খোলেন, তখন বুঝতে হবে যে বিষয়টি নিয়ে কথা বলা এই মুহূর্তে অত্যন্ত জরুরি ছিল।
পর্তুগালের সীমান্ত ও প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলো বছরের পর বছর ধরে কেন্দ্রীয় প্রশাসনের চরম ‘উপেক্ষা’ বা অবহেলার শিকার হয়েছে, যা এখন একটি ‘ক্রনিক’ বা দীর্ঘস্থায়ী সমস্যায় পরিণত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই অবহেলিত সম্প্রদায়গুলোর এখন টিকে থাকার জন্য জরুরি ভিত্তিতে সরকারি মনোযোগ ও বড় অঙ্কের বাজেট প্রয়োজন। প্রেসিডেন্টের এই সময়োচিত বক্তব্য সরকারের নীতিনির্ধারকদের অলসতা কাটাতে সাহায্য করবে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
