পর্তুগালে ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ প্রথম দফার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং প্রাথমিক/আউটপোল ও প্রায় সম্পূর্ণ ভোট গণনা অনুসারে কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশ-এর বেশি ভোট পায়নি, ফলে দ্বিতীয় দফা বা রান-অফে যাওয়ার সম্ভাবনা নিশ্চিত হয়ে উঠেছে। এটি প্রায় চল্লিশ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো এমন ঘটনা, যদিও এর আগে ১৯৮৬ সালে রান-অফ হয়েছিল।
প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী
অ্যান্তোনিও জোসে সেগুরো: সমাজতান্ত্রিক দলের প্রার্থী, প্রথম স্থানে থেকে রান-অফে উঠেছেন, আনুমানিক, ৩০–৩১ শতাংশ ভোট পেয়েছেন।
আন্দ্রে ভেনচুরা: কট্টর-ডানপন্থী শেগা দলের নেতা, দ্বিতীয় স্থানে থেকে দ্বিতীয় দফায় পৌঁছালেন, প্রাপ্ত ভোট ২৩–২৭ শতাংশ।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীর মধ্যে উদারপন্থী জোয়াও কোট্রিম ফিগেইরেদো তৃতীয় স্থানে থাকছেন। ডানপন্থী লুইস মার্কেস মেন্দেস ও অবসরপ্রাপ্ত নৌ-অ্যাডমিরাল এনরিক গুভেইয়া ই মেলো প্রথম দফায় উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছেন, কিন্তু রান-অফের বাইরে থাকছেন।
নির্বাচনের গুরুত্ব এবং বিশ্লেষণ
ভেনচুরা প্রথমবারের মতো কট্টর-ডানপন্থী প্রার্থী হিসেবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় পৌঁছেছেন, যা পর্তুগালের রাজনৈতিক দৃশ্যে একটি নতুন উত্তরাধিকার নির্দেশ করে। ইউরোপের অনেক দেশে যেমন ফ্রান্স, ইতালি, জার্মানি ও স্পেনে কট্টর-ডানপন্থী ও জনতাবাদী দলগুলির সমর্থন বাড়ছে এবং পর্তুগালেও একই ধারা লক্ষ করা যাচ্ছে। যদিও পর্তুগালের রাষ্ট্রপতির ভূমিকা সাধারণত সাংবিধানিক ও সমন্বয়কেন্দ্রিক, সংকটকালে সংসদ ভেঙে দেওয়া, নির্বাচন ডাকা বা প্রধানমন্ত্রী বরখাস্ত করার ক্ষমতা রয়েছে, তাই ফল গুরুত্বপূর্ণ। পর্তুগালের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও সরকার প্রধান দল হলো সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি–পিএসডি; কিন্তু শেগা পার্টি সংসদে দ্বিতীয় সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠেছে, যা রাজনৈতিক ভারসাম্যকে প্রভাবিত করছে।
পরবর্তী ধাপ
দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদ্বন্দ্বী দু’জন হলো, সমাজতান্ত্রিক নেতা আন্তোনিও জোসে সেগুরো এবং কট্টর-ডান শেগা নেতা আন্দ্রে ভেনচুরা।
বিশ্লেষকদের সমীক্ষা অনুযায়ী দ্বিতীয় দফায় ভেনচুরার সমর্থন সীমাবদ্ধ থাকায় সেগুরোর জন্য সুবিধা বলে মনে করা হচ্ছে, কিন্তু ফলাফল ফাইনাল হবে ভোটের দিনের সিদ্ধান্তে।
সামগ্রিক প্রভাব
এই নির্বাচন শুধু পর্তুগালের জন্য নয়, বরং ইউরোপজুড়ে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও কট্টর-ডান শক্তির বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
