পর্তুগালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া লুসিয়া আমারাল, আজ (১১ ফ্রেব্রুয়ারি) দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন। পররাষ্ট্র ও রাজনৈতিক মহল থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি দেশজুড়ে আঘাত সৃষ্টি করা শক্তিশালী শীতকালীন ঝড়গুলোর মোকাবিলায় সরকারের প্রতিক্রিয়ার প্রতি ক্রমবর্ধমান সমালোচনার পর তিনি পদত্যাগ করেন।
পর্তুগালের রাষ্ট্রপতি মার্সেলো রেবেলু ডি সোজা তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন, যা প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টিনিগ্রোর অনুরোধে বাস্তবায়িত হয়েছে। লুসিয়া আমারাল জানান তিনি “ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিকভাবে আর এই দায়িত্ব পালন করার উপযোগী নন”- এমন এক সময় যখন দেশটি প্রবল ঝড় ‘ক্রিস্টিনসহ’ বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন।
ঝড় ‘ক্রিস্টিন’ শেষ তিন সপ্তাহে কেন্দ্রীয় পর্তুগালে ২০০ কিমি/ঘণ্টার বেশি গতির বাতাস ও ভারী বৃষ্টি নিয়ে আঘাত হেনেছে, যার ফলে অসংখ্য বাড়ি, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ অবকাঠামো বিধ্বস্ত হয়েছে এবং অন্তত ছয় জনের প্রাণহানি ঘটেছে। সরকারি হিসাব মতে এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সরাসরি পুনর্নির্মাণের খরচ ৪ বিলিয়ন ইউরো ছাড়িয়ে যাবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের পেছনে সরকারের ঝড় প্রতিক্রিয়া ইস্যুতে বিরোধী দলের চাপ অন্যতম। পর্তুগালের প্রধান বিরোধী দল তথা সোসিয়ালিস্ট পার্টির নেতা জোসে লুইস কারনেইরো বলেছেন, সরকারের এই ব্যর্থ শ্রমিকতা ও ঝড় মোকাবিলা পরিকল্পনার ঘাটতি পুরো সরকারের উপরই প্রশ্ন তুলেছে।
পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টিনিগ্রো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সাময়িকভাবে হাতে নিয়েছেন, এবং নতুন মন্ত্রী নিয়োগের জন্য প্রস্তুতি চলছে। মন্টিনিগ্রো সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এটিই প্রথম কোন মন্ত্রীর পদত্যাগ।
এই পদক্ষেপটি পর্তুগালের রাজনৈতিক সহ জরুরি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নতুন বিতর্ক ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে, বিশেষত যখন দেশটি আরো আগত ঝড় ‘মার্টা ও নিলস’-এর প্রভাব মোকাবিলা করতে হবে বলে পূর্বাভাস রয়েছে।
