পর্তুগালের আবাসন সংকট আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে—এমন একটি ভাড়া সংক্রান্ত বিল বাতিলের দাবিতে দেশটির সংখ্যালঘু মধ্য-ডানপন্থী সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে শনিবার লিসবনের একটি প্রধান চত্বরে হাজারো মানুষ সমবেত হন। আবাসন আন্দোলনকারীরা বিলটি বাতিলের দাবিতে এ বিক্ষোভ করেন।
পর্তুগাল বর্তমানে ইউরোপের অন্যতম গুরুতর আবাসন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তরুণেরা। ২০১৭ সালের পর থেকে দেশটিতে বাড়ির দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। একই সময়ে নতুন চুক্তিতে বাড়িভাড়াও প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
আন্দোলনের আয়োজকেরা জানান, মধ্য লিসবনের রোসিও স্কয়ারে কয়েক হাজার মানুষ সমবেত হয়েছিলেন। তবে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মানুষের সংখ্যা নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো হিসাব দেওয়া হয়নি।
আবাসন সংকট ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে আন্দোলন আরও জোরালো হয়েছে। এক সপ্তাহ আগে একই চত্বর থেকে একটি অস্থায়ী ক্যাম্প সরিয়ে নেওয়ার সময় বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠিচার্জ ও বহু মানুষকে গ্রেপ্তার করায় পুলিশের সমালোচনা হয়।
আবাসন আন্দোলন ‘কাসা পারা ভিভের’-এর মুখপাত্র রিতা সিলভা সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম আরটিপিকে বলেন, ‘আবাসন সংকট, জীবনযাত্রার বাড়তি খরচ এবং বর্তমানে জীবনধারণের চরম কষ্ট নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে টানা প্রতিবাদের পরও মানুষ অসীম ধৈর্য, শক্তি ও দৃঢ় সংকল্প দেখাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘সরকারের মধ্যে আমাদের কথা শোনার মতো কোনো সদিচ্ছা দেখতে পাচ্ছি না। এই বিক্ষোভ অব্যাহত থাকবে।’
আবাসন ব্যয় আকাশচুম্বী হয়ে ওঠার প্রতিবাদে স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইউরোপের অন্যান্য দেশেও যে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে, লিসবনের এই আন্দোলন তারই প্রতিফলন।
পর্তুগালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুই নেভেস বলেন, সরকার বিক্ষোভের বৈধতাকে সম্মান করে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রতিবাদ যেন ‘শৃঙ্খলা, ভদ্রতা’ ও ‘আইন মেনে’ পরিচালিত হয়।
বিল বাতিলের দাবি
বিক্ষোভকারীরা সরকারের কাছে এমন একটি বিল বাতিলের দাবি জানাচ্ছেন, যার মাধ্যমে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া সহজ করা এবং নতুন ভাড়ার ওপর সর্বোচ্চ সীমা আরোপের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। অতি-ডানপন্থী দল চেগা ভোটদানে বিরত থাকায় বিলটি পার্লামেন্টের প্রথম পাঠে পাস হয়।
প্রধানমন্ত্রী লুই মোন্তেনেগ্রো গত বৃহস্পতিবার বিলটি পুরোপুরি বাতিলের সম্ভাবনা নাকচ করে দেন। তবে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত ভোটাভুটির আগে এতে সংশোধনী আনার বিষয়ে তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেন।
মোন্তেনেগ্রো বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে ‘কাছাকাছি আসতে হবে’। তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করেন যে বিলটির মূল দিকনির্দেশনা সরকারের নিজস্ব পরিকল্পনা অনুযায়ীই থাকবে।
এদিকে, সোশ্যালিস্ট পার্টির নেতা হোসে লুই কার্নেইরো শনিবার সরকারকে বিরোধী দল ও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান। তাঁর অভিযোগ, সরকার ‘অহংকারবশত নিজেদের চিন্তাভাবনা চাপিয়ে দিচ্ছে এবং কখনো কখনো কর্তৃত্ববাদী মনোভাবও দেখাচ্ছে।’
