শুক্রবার, ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬   |   ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পর্তুগালের একীকরণ, অভিবাসন ও আশ্রয় সংস্থা  ৯ বছর বয়সী এক ব্রাজিলীয় বালিকাকে দেওয়া দেশত্যাগের আদেশ প্রত্যাহার করে নিয়েছে। সংস্থাটি স্বীকার করেছে যে, শিশুটির বসবাসের অনুমতি নবায়নের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা এবং তাকে ২০ দিনের মধ্যে দেশ ছাড়ার নোটিশ দেওয়া ছিল একটি বড় ধরণের ‘বিশ্লেষণমূলক ত্রুটি’। পর্তুগালের জনপ্রিয় গণমাধ্যম এসআইসি তে এই অমানবিক ঘটনার প্রতিবেদনটি প্রচারিত হওয়ার পরই নড়েচড়ে বসে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ।

আট মাস বয়স থেকে আলগার্ভে বসবাস করে আসা ওই শিশুটি তার বাবা-মা এবং ২০ বছর বয়সী ভাইয়ের সাথে পর্তুগালে থাকছিল। গত ৭ই এপ্রিল আইমা পরিবারটিকে একটি ইমেইল পাঠায়, যেখানে দাবি করা হয় যে ‘বাসস্থানের প্রমাণপত্র’ জমা না দেওয়ায় শিশুটিকে দেশ ছাড়তে হবে। এমনকি শিশুটির নাম শেনগেন অঞ্চলের কেন্দ্রীয় ডেটাবেসে অপরাধী বা অবৈধদের তালিকায় নথিভুক্ত করা হয়। অথচ শিশুটির মা কাতিয়া মোরেইরা জানান, তিনি সঠিক সময়েই বাড়ির চুক্তিপত্রসহ প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র জমা দিয়েছিলেন।

এসআইসি-কে পাঠানো এক বিবৃতিতে এআইএমএ জানিয়েছে, “প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার বিশ্লেষণে একটি ত্রুটি ছিল, যা ইতোমধ্যে সংশোধন করা হয়েছে এবং পরিবারকে অবহিত করা হয়েছে। ভুলবশত জারি করা স্বেচ্ছায় দেশত্যাগের বিজ্ঞপ্তিটি বাতিল করা হয়েছে।” সংস্থাটি আরও নিশ্চিত করেছে যে, শিশুটির বড় ভাইয়ের বসবাসের অনুমতির আবেদনটিও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো যখন ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি লুলা দা সিলভা ২১শে এপ্রিল পর্তুগাল সফরে আসছেন। রাষ্ট্রপতি আন্তোনিও হোসে সেগুরো এবং প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টেনেগ্রোর সাথে তাঁর বৈঠকে অভিবাসন ও বিদেশিদের প্রতি বিদ্বেষ নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অভিবাসন বিষয়ক আইনজীবী বিয়াট্রিজ ভ্যালেরিও দাবি করেছেন যে, কীভাবে এমন ভয়াবহ ভুল হলো তা তদন্ত করে দেখার জন্য আইমা-র ভেতরে ‘অভ্যন্তরীণ তদন্ত’ হওয়া এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা জরুরি।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version