ব্যক্তিগত আয়করের হার কমানোর পাশাপাশি পর্তুগিজ নাগরিকত্ব পাওয়ার নতুন বিধিমালার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে পর্তুগাল সরকার।
গত ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকের পর জারি করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সরকার জানায়, তারা ব্যক্তিগত আয়করের হার কমানোর অনুমোদন দিয়েছে; যার ফলে দেশটির প্রায় ৩০ লাখ পরিবার আর্থিকভাবে লাভবান হবে।
এই ডিক্রি-আইনটির মাধ্যমে আয়ের প্রথম ছয়টি ধাপের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইআরএস (IRS) করের হার হ্রাস করা হয়েছে, যা ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ভূতাপেক্ষভাবে (পেছনের তারিখ থেকে) কার্যকর হবে।
এই পদক্ষেপের ফলে চাকরি ও পেনশনের ওপর করের বোঝা কমবে এবং পর্তুগিজ নাগরিকদের হাতে ব্যয়যোগ্য আয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে।
মন্ত্রিপরিষদের ব্রিফিংকালে পর্তুগালের প্রেসিডেন্সি বিষয়ক মন্ত্রী আন্তোনিও লেইতাও আমারো বলেন, ‘এর মাধ্যমে জনগণের পকেটে অতিরিক্ত ৪০ কোটি (৪০০ মিলিয়ন) ইউরো থাকবে।’
লেইতাও আমারো স্মরণ করিয়ে দেন যে, ২০২৪ সালের এপ্রিলের পর থেকে এটি ব্যক্তিগত আয়করে ষষ্ঠবারের মতো ছাড়। তিনি বলেন, ‘কাজের সঠিক মূল্যায়ন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সরকারি তহবিলের দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনার সুফল পরিবারগুলোর কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ধারাবাহিক কৌশলেরই অংশ এটি।’
প্রেসিডেন্সি বিষয়ক মন্ত্রী আরও বলেন, ‘যে সময়ে পর্তুগিজরা বিশেষ করে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির মাধ্যমে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় প্রত্যক্ষ করছে, ঠিক তখন এই ব্যবস্থাটি পরিবারগুলোর ক্রয়ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে।’
সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, এই সুবিধাটি মূলত ‘মধ্যবিত্ত শ্রেণির আয়ের ওপর বেশি প্রভাব ফেলবে; তবে উচ্চ আয়ের করদাতারাও এর সুফল পেতে পারেন’, কারণ তাঁদের আয়ও প্রথম দিকের কর ধাপগুলোর আওতায় পড়ে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘জর্নাল ইকোনমিকো’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আয়কর কমানোর এই সিদ্ধান্ত ২০২৬ সালের নভেম্বর মাসে বেতন ও পেনশনের ওপর আরোপিত উৎসে কর কর্তনেও (উইথহোল্ডিং ট্যাক্স) প্রভাব ফেলবে।
এর আগে গত ১৩ অক্টোবর জারি করা এক সরকারি আদেশে বলা হয়, নভেম্বর মাসে বেশিরভাগ বেতন ও পেনশনের ক্ষেত্রে উৎসে কর কর্তনের হার ৫০ শতাংশ কমানো হবে।
গত ২২ অক্টোবর পার্লামেন্ট কর্তৃক অনুমোদিত এই আইনের আওতায় প্রথম ছয়টি ধাপের জন্য নতুন করের হার নির্ধারণ করা হয়েছে যথাক্রমে ১২.২%, ১৫.২%, ২০.৭%, ২৩.৬%, ৩০.৬% এবং ৩৪.৬%।
পর্তুগিজ নাগরিকত্বে নতুন শর্তাবলি
এদিকে মন্ত্রিপরিষদ নতুন নাগরিকত্ব আইন বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রবিধান সংবলিত ডিক্রি-আইনও অনুমোদন করেছে। এতে পর্তুগিজ নাগরিকত্ব প্রদান ও অর্জনের ক্ষেত্রে নতুন শর্তাবলি সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে; একই সঙ্গে আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি ও দীর্ঘসূত্রতা কমানোর পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।
নতুন এই আইনে নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য বৈধভাবে বসবাসের ক্ষেত্রে নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। পর্তুগিজ ভাষাভাষী আফ্রিকান দেশগুলোর (প্যালপ – PALOP) নাগরিক ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকদের জন্য সাত বছরের বৈধ বসবাস বাধ্যতামূলক করা হয়েছে; অন্যদিকে অন্যান্য দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে এটি নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ বছর।
বিদেশি বাবা-মায়ের সন্তানদের ক্ষেত্রে পর্তুগালে জন্ম নিলেই জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন শর্ত দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সন্তানের জন্মের সময় বাবা-মায়ের অন্তত একজনকে পর্তুগালে ন্যূনতম পাঁচ বছরের বৈধ বসবাস সম্পন্ন করতে হবে।
লেইতাও আমারো বলেন, ‘এই সংস্কারের মূল ভিত্তিগুলো নাগরিকত্ব আইনেই নির্ধারিত হয়েছিল; এটি পুরোপুরি কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রবিধান অনুমোদন করার দায়িত্ব ছিল আমাদের, এবং আমরা ঠিক সেটাই করেছি। একই সঙ্গে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমাতে কিছু প্রক্রিয়াকরণ বিষয়কে সহজ করার চেষ্টা করেছি।’
মন্ত্রী আরও স্পষ্ট করে বলেন, ‘পর্তুগিজ সমাজের সঙ্গে কার্যকর ও বাস্তবিক সংযোগ প্রদর্শনের ক্ষেত্রে আমরা নাগরিকত্ব প্রদানের শর্তগুলোকে আরও কঠোর করেছি।’
নতুন এই ডিক্রিতে পর্তুগিজ ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর পরীক্ষা নেওয়ার বিস্তারিত নিয়মাবলিও যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া আবেদনকারীদের কী ধরনের আর্থিক সক্ষমতার শর্ত পূরণ করতে হবে এবং কীভাবে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও আইনের শাসনের প্রতি তাঁদের আনুষ্ঠানিক আনুগত্য ঘোষণা করতে হবে—তাও এতে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
