শনিবার, ২৯ই আগস্ট, ২০২৬   |   ১৪ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বজুড়ে প্রবাসীদের জীবনযাত্রার মান ও সুযোগ-সুবিধার ওপর ভিত্তি করে তৈরি ‘ইন্টারনেশন্স এক্সপ্যাট ইনসাইডার কোয়ালিটি অব লাইফ ইনডেক্স ২০২৫’-এ বিশ্বের সেরা ১০টি দেশের তালিকায় স্থান পেয়েছে পর্তুগাল।

মোট ৪৬টি দেশের মধ্যে পর্তুগাল তালিকার ১০ম স্থান অর্জন করেছে। বিপরীতে, যুক্তরাজ্য (ইউকে) এই তালিকায় ৩৮তম অবস্থানে রয়েছে। এই ফলাফল প্রমাণ করে যে—জীবনযাত্রার চমৎকার ভারসাম্য, নিরাপত্তা, মনোরম জলবায়ু, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও দৈনন্দিন কল্যাণের জন্য পর্তুগাল এখনও প্রবাসীদের কাছে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।

বিশ্বখ্যাত গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ইন্টারনেশন্স’ পরিচালিত এই ‘এক্সপ্যাট ইনসাইডার’ জরিপটি বিশ্বজুড়ে প্রবাসীদের মতামত জানার জন্য অন্যতম বৃহত্তম ও নির্ভরযোগ্য সমীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হয়। ২০২৫ সালের এই সংস্করণে ১৭২টি দেশের প্রায় ১০,০০০-এর বেশি প্রবাসীর মতামত সংগ্রহ করা হয়েছে।

এই কোয়ালিটি অব লাইফ ইনডেক্স তৈরিতে মূলত পাঁচটি প্রধান বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে: নিরাপত্তা ও সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, অবসরযাপনের সুযোগ, ভ্রমণ ও যাতায়াত ব্যবস্থা এবং পরিবেশ ও জলবায়ু। এই ক্ষেত্রগুলো মূলত প্রবাসীদের বসবাসের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সরাসরি ভূমিকা রাখে।

পরিবেশ, মনোরম আবহাওয়া ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে পর্তুগাল সবচেয়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছে। ইন্টারনেশন্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—পর্তুগালে বসবাসরত বহু প্রবাসী এদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ, চমৎকার বায়ুর গুণমান, মৃদু রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া, অলস ও আরামদায়ক জীবনযাত্রা এবং সমুদ্র সৈকতের সহজ যাতায়াত ব্যবস্থাকে বিশেষভাবে মূল্যায়ন করেছেন।

যুক্তরাজ্য থেকে যারা পর্তুগালে চলে যাওয়ার কথা ভাবছেন, তাদের জন্য এই তালিকায় পর্তুগালের অবস্থান তাঁদের কাঙ্ক্ষিত চাওয়াগুলোকেই প্রতিফলিত করে। প্রবাসীরা মূলত একটি নিরাপদ ইউরোপীয় আশ্রয়, ঘরের বাইরে বেশি সময় কাটানো, কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের চমৎকার ভারসাম্য, আকর্ষণীয় খাদ্য সংস্কৃতি এবং বন্ধুবৎসল কমিউনিটির খোঁজ করেন—যা পর্তুগালে ভরপুর রয়েছে।

যুক্তরাজ্যে অবস্থিত ‘পর্তুগিজ চেম্বার অব কমার্স’-এর জেনারেল ম্যানেজার ক্রিস্টিনা হিপিসলে বলেন, ‘প্রবাসীদের জীবনযাত্রার মানে পর্তুগালের শীর্ষ ১০-এ স্থান পাওয়া আমাদের “মুভিং টু পর্তুগাল” ইভেন্টে আসা মানুষের মতামতের সঙ্গে শতভাগ মিলে যায়। আমাদের এখানে আসা দর্শনার্থীরা কেবল একটি ছুটির দিন কাটানোর জায়গা বা সম্পত্তি কেনার জন্য পর্তুগালকে খুঁজছেন না। তারা জানতে চান—সেখানে তারা কতটা নিরাপদ বোধ করবেন, পরিবারের বা অবসরকালীন জীবনের জন্য কেমন পরিবেশ পাবেন। পর্তুগাল অত্যন্ত সফলভাবে তাদের এই চাওয়াগুলো পূরণ করে চলেছে।’

এই নতুন র্যাংকিংটি এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন যুক্তরাজ্য এবং আয়ারল্যান্ডের বাসিন্দাদের মধ্যে পর্তুগালে স্থায়ী হওয়া, অবসরযাপন, বিনিয়োগ বা সম্পত্তি কেনার ক্ষেত্রে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।

আগ্রহী প্রবাসীদের সঠিক তথ্য দিয়ে সাহায্য করতে যুক্তরাজ্যের পর্তুগিজ চেম্বার অব কমার্স আগামী ২০২৬ সালের শরতে ডাবলিন, লন্ডন এবং এডিনবার্গ শহরে বিশেষ ‘মুভিং টু পর্তুগাল শো ও সেমিনার’-এর আয়োজন করতে যাচ্ছে। এই ইভেন্টগুলোতে বিশেষজ্ঞরা রেসিডেন্সি বা থাকার অনুমতি, ভিসা, ট্যাক্স, পেনশন, সম্পত্তি ক্রয়, স্বাস্থ্যসেবা, স্কুল ও আর্থিক পরিকল্পনাসহ পর্তুগালের দৈনন্দিন জীবনের নানা বিষয়ে প্রবাসীদের গাইডলাইন দেবেন।


শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version