পর্তুগালের ডানপন্থী রাজনৈতিক দল ‘শেগা’ দেশটির তরুণ প্রজন্মের জন্য এক চাঞ্চল্যকর সামরিক প্রস্তুতির প্রস্তাব পেশ করেছে। দলটির প্রধান আন্দ্রে ভেঞ্চুরার নেতৃত্বে জমা দেওয়া এই খসড়া প্রস্তাবে বর্তমানের একদিনের ‘জাতীয় প্রতিরক্ষা দিবস’ কে পূর্ণাঙ্গ ‘জাতীয় প্রতিরক্ষা সপ্তাহে’ রূপান্তর করার দাবি জানানো হয়েছে। এর ফলে ১৮ বছর বয়সী প্রত্যেক নাগরিককে অন্তত ৫ কার্যদিবস বাধ্যতামূলক সামরিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
শেগা’র মতে, বর্তমানের মাত্র ১ দিনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ‘স্পষ্টতই অপর্যাপ্ত’। তাদের নতুন প্রস্তাবে যা যা থাকছে:
৫ দিনের প্রশিক্ষণ: একদিনের নামমাত্র কর্মসূচির বদলে ন্যূনতম ৫ দিন সামরিক পরিবেশে থাকতে হবে তরুণদের।
সামরিক পরিদর্শন: তলব করা তরুণ নাগরিকদের ওপর সরাসরি ‘সামরিক পরিদর্শন’ চালানো হবে।
আধুনিক যুদ্ধকৌশল: কেবল তাত্ত্বিক তথ্য নয়, বরং সাইবার নিরাপত্তা, সিভিল প্রোটেকশন এবং হাইব্রিড হুমকির মতো আধুনিক যুদ্ধকৌশলে সরাসরি প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সেনা মোতায়েনের তথ্যভাণ্ডার: এই সংস্কারের মাধ্যমে রাষ্ট্র তার সচল বা সক্রিয় করার যোগ্য নাগরিকদের সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য পাবে, যা জরুরি অবস্থায় দ্রুত সেনা মোতায়েনে সহায়তা করবে।
দলের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, ইউরোপের অন্যান্য দেশ যখন তাদের সামরিক শক্তি ও প্রস্তুতি জোরদার করছে, তখন পর্তুগাল উদাসীন থাকতে পারে না। সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তরুণ প্রজন্মকে মানসিকভাবে ও কৌশলগতভাবে প্রস্তুত করাই এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য। বর্তমানে পর্তুগালে ১৮ বছর বয়সীদের জন্য একদিনের প্রতিরক্ষা দিবস পালন বাধ্যতামূলক থাকলেও সেখানে কোনো শারীরিক বা সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় না।
শেগা’র এই বিতর্কিত প্রস্তাবটি চলতি সপ্তাহে পর্তুগিজ পার্লামেন্টের ‘জাতীয় প্রতিরক্ষা বিষয়ক স্থায়ী কমিটিতে উত্থাপন করা হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণের এই বিষয়টি পর্তুগালের তরুণ সমাজ এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
