এক ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে ইউরোপের পর্যটননির্ভর দেশ পর্তুগাল। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশ্লেষক সংস্থা ‘আর্গাস’ এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক উদ্বেগজনক তথ্য। বর্তমান মজুদ অনুযায়ী, দেশটিতে যে পরিমাণ জেট ফুয়েল বা বিমানের জ্বালানি (কেরোসিন) অবশিষ্ট আছে, তা দিয়ে বড়জোর আগামী ৪ মাস চলা সম্ভব। ইরান কর্তৃক পারস্য উপসাগরের কৌশলগত হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার সরাসরি প্রভাবে এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে, যা পুরো ইউরোপের বিমান চলাচল খাতকে খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে।
ইউরোস্ট্যাট এবং ‘জেওডিআই’ এর তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুক্তরাজ্যের পর ইউরোপের দ্বিতীয় দেশ হিসেবে পর্তুগাল এই জ্বালানি সংকটে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি মে মাস পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ রুটগুলো স্বাভাবিক না হয়, তবে ইউরোপের দেশগুলোর জ্বালানি মজুদ দ্রুত শেষ হয়ে আসবে। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের হাতে আছে মাত্র ৩ মাসের মজুদ, পর্তুগালের ৪ মাস, হাঙ্গেরির ৫ মাস এবং ডেনমার্কের হাতে আছে ৬ মাসের জ্বালানি। জার্মানি ও ইতালির মতো বড় দেশগুলো বড়জোর ৭ মাস পর্যন্ত টিকে থাকতে পারবে।
সংকট ঘনীভূত হলেও পর্তুগালের জন্য কিছু স্বস্তির খবর রয়েছে যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহায়তা করতে পারে। দেশটির একমাত্র তেল শোধনাগারটি গত বছর তাদের বড় ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ সফলভাবে শেষ করেছে। এর ফলে ঘরোয়াভাবে জ্বালানি উৎপাদনের সক্ষমতা বর্তমানে আগের চেয়ে স্থিতিশীল রয়েছে। সাধারণত মে মাস থেকে পর্তুগাল পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে জ্বালানি কেনা শুরু করে। হাতে থাকা এই কয়েক মাসের মধ্যে কর্তৃপক্ষ যদি বিকল্প কোনো সরবরাহকারী দেশ খুঁজে পায় বা কৌশলগত মজুদ বাড়াতে পারে, তবে আসন্ন গ্রীষ্মকালীন পর্যটন মৌসুমে বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হতে পারে।
হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকাই এই সংকটের প্রধান কারণ, কারণ বিশ্বব্যাপী জেট ফুয়েল সরবরাহের একটি বিশাল অংশ এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই রুট বন্ধ থাকায় যুক্তরাজ্যে কেরোসিন সংকট দেখা দিলে তার একটি ‘ডমিনো ইফেক্ট’ বা চেইন রিঅ্যাকশন পুরো ইউরোপের ওপর পড়বে। পর্তুগাল যেহেতু একটি পর্যটননির্ভর দেশ, তাই বিমান জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার অর্থ হলো দেশটির অর্থনীতিতে বিশাল ধস নামা। ইতিমধ্যেই রায়ানএয়ার এর মতো বড় বিমান সংস্থাগুলো ফ্লাইট বাতিলের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি সামাল দিতে পর্তুগাল ও ইউরোপকে সম্মিলিতভাবে জ্বালানি আমদানির নতুন রুট বা কৌশল দ্রুত নির্ধারণ করতে হবে।
