পর্তুগালের জাতীয়তা বা নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারিকে স্বাগত জানিয়েছেন দেশটির ডানপন্থী রাজনৈতিক দল ‘শেগা’র নেতা আন্দ্রে ভেঞ্চুরা। সোমবার (৪ মে ২০২৬) লিসবনে দলের সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই পদক্ষেপকে দেশের জন্য একটি ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’ হিসেবে অভিহিত করেন। তবে রাষ্ট্রপতি আন্তোনিও হোসে সেগুরো যেখানে বিচারাধীন মামলাগুলো সুরক্ষার কথা বলছেন, সেখানে ভেঞ্চুরা এই আইনটি অবিলম্বে এবং বর্তমানে চলমান সকল প্রক্রিয়ার ওপর কার্যকর করার পক্ষে জোরালো মত দিয়েছেন।
আন্দ্রে ভেঞ্চুরা যুক্তি দেন যে, এই আইনটি কোনো ফৌজদারি আইন নয়, বরং একটি প্রশাসনিক আইন যা নাগরিকত্ব লাভের নিয়মকানুন নির্ধারণ করে। তাই তাঁর মতে, যারা ইতিমধ্যে নাগরিকত্বের আবেদন করেছেন বা যাদের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান, তাদের ক্ষেত্রেও এই নতুন নিয়মগুলো প্রযোজ্য হওয়া উচিত। রাষ্ট্রপতি সেগুরো যেখানে বিচারাধীন আবেদনের ক্ষেত্রে ‘রাষ্ট্রের প্রতি আস্থার লঙ্ঘন’ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে কিছুটা সংযম চেয়েছিলেন, ভেঞ্চুরা সেখানে কঠোর অবস্থান নিয়ে জানিয়েছেন যে, পরিবর্তনের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
রাষ্ট্রপতির ‘বৃহত্তর ঐকমত্যের’ অভাব সংক্রান্ত আক্ষেপের জবাবে শেগা নেতা বলেন, বর্তমান সংসদে প্রধান তিনটি রাজনৈতিক শক্তির যে সহাবস্থান, তাতে এর চেয়ে বেশি ঐকমত্য সম্ভব ছিল না। তিনি মনে করেন, সোশ্যালিস্ট পার্টি (PS) বা লেফট ব্লকের মতো দলগুলোর সাথে এই বিষয়ে একমত হওয়া অসম্ভব ছিল, তাই বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই আইনটিই ‘সর্বনিম্ন সম্ভাব্য ঐকমত্য’ বহন করে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আইনটিতে বর্তমান সময়ের রাজনৈতিক আদর্শের ছাপ থাকাটাই স্বাভাবিক।
একই সাথে ভেঞ্চুরা সাংবিধানিক আদালতকে নাগরিকত্ব হারানোর সংক্রান্ত দণ্ডবিধির সংশোধনীগুলোর বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, সম্পূর্ণ আইনি প্যাকেজটি দ্রুত কার্যকর হওয়া প্রয়োজন যাতে পর্তুগিজ জনগণ এবং বর্তমান সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনগুলো দৃশ্যমান হয়। উল্লেখ্য যে, এই আইনটি গত ১লা এপ্রিল সংসদে পিএসডি, শেগা এবং আইএল-এর মতো দলগুলোর দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাস হয়েছিল, যা রাষ্ট্রপতির ভেটো দেওয়ার ক্ষমতাকেও সীমিত করে দিয়েছিল।
তথ্যসূত্র: সিস নোটিসিয়াস
