স্পেনে শিশু দারিদ্র্য বিমোচন এবং প্রতিটি পরিবারের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে দেশটির সরকার। প্রস্তাবিত এই নতুন প্রকল্প অনুযায়ী, স্পেনে বসবাসরত প্রতিটি পরিবার তাদের ১৮ বছর অনূর্ধ্ব প্রতিটি সন্তানের জন্য প্রতি মাসে ২০০ ইউরো (প্রায় ২৫,০০০ টাকা) করে বিশেষ ভাতা পেতে পারে। সরকারের ‘২০৩০ টেকসই উন্নয়ন কৌশল’-এর আওতায় এই বিশাল সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার জন্য বার্ষিক প্রায় ১৯.১ বিলিয়ন ইউরো বাজেট বরাদ্দ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই ভাতার সবচেয়ে অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো এটি সম্পূর্ণ ‘ইউনিভার্সাল’ বা সর্বজনীন। অর্থাৎ, পরিবারের মাসিক আয় অনেক বেশি বা কম যাই হোক না কেন, আয়ের কোনো সীমা ছাড়াই সব পরিবার এই ভাতার জন্য আবেদন করতে পারবে। স্পেনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ স্ট্যাটিস্টিকস এর তথ্যমতে, দেশটিতে বর্তমানে প্রায় ৭৯ লক্ষ শিশু রয়েছে এবং এই বিশাল জনগোষ্ঠীর প্রতিটি নির্ভরশীল সন্তানের জন্য এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে। তবে এই সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদনকারীকে অবশ্যই স্পেনের বৈধ বাসিন্দা হতে হবে এবং তাঁর স্থানীয় মিউনিসিপ্যাল রেজিস্ট্রেশন বা ‘এম্পাদ্রোয়ামিয়েন্তো’ (Empadronamiento) যথাযথভাবে আপডেট থাকতে হবে।
আবেদনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নথিপত্রের মধ্যে মা-বাবার বৈধ পরিচয়পত্র, ফ্যামিলি রেজিস্টার বা ‘লিব্রো দে ফামিলিয়া’ এবং আপ-টু-ডেট মিউনিসিপ্যাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট থাকা বাধ্যতামূলক। বর্তমানে এই পরিকল্পনাটি প্রস্তাবিত অবস্থায় থাকলেও সরকার চলতি বছরের মধ্যেই এটি চূড়ান্ত অনুমোদনের চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে যৌথ কাস্টডি বা দত্তক নেওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে পেমেন্ট বণ্টনের প্রক্রিয়া এবং যারা ইতিমধ্যে অন্যান্য সামাজিক ভাতা (যেমন: IMV) গ্রহণ করছেন, তাদের সাথে এই ২০০ ইউরোর সমন্বয় কীভাবে হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত নীতিমালা খুব শীঘ্রই ঘোষণা করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পর্তুগাল বা ইউরোপের অন্যান্য দেশে যখন অভিবাসন ও নাগরিকত্ব আইন কঠোর করার খবর আসছে, তখন স্পেনের এই মানবিক ও পজিটিভ পদক্ষেপটি সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটিসহ সকল প্রবাসীর জন্য এক বড় স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে স্পেনের শিশু দারিদ্র্য উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে এবং পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।
তথ্যসূত্র: মেজরিকা ডেইলি বুলেটিন
