অভিবাসন ইস্যুতে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে তীব্র বিতর্কে জড়িয়েছে ইউরোপীয় পিপলস পার্টি (ইপিপি) ও সোশ্যালিস্টস অ্যান্ড ডেমোক্র্যাটস (এসঅ্যান্ডডি)। স্পেনের নিয়ন্ত্রিত উত্তর আফ্রিকার অঞ্চল সেউতায় গত জুলাইয়ে বিপুলসংখ্যক অভিবাসীর প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবারের অধিবেশনে পরস্পরকে দোষারোপ করেন দুই পক্ষের আইনপ্রণেতারা।
৩০ ও ৩১ জুলাই সেউতায় প্রায় ৮০ হাজার মানুষ অনিয়মিতভাবে সীমান্ত পেরিয়ে প্রবেশ করেন। এ সময় ১৫০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সরকারের পক্ষ নিয়ে এসঅ্যান্ডডির নেতা ইরাতক্সে গার্সিয়া পেরেজ ইপিপির বিরুদ্ধে সেউতা সংকটকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের অভিযোগ তোলেন।
অন্যদিকে, ইপিপির আইনপ্রণেতারা বিপুলসংখ্যক অভিবাসীর প্রবেশ ঠেকাতে ব্যর্থতার জন্য সানচেজ সরকারকে দায়ী করেন। ঘটনাটিকে ইউরোপীয় ভূখণ্ডে ‘আগ্রাসন’ বলেও উল্লেখ করেন তাঁরা।
ইতালিও এ ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছে। দেশটি স্পেনের সঙ্গে আকাশ ও সমুদ্রপথের সীমান্তে পুনরায় চালু করা তল্লাশি আরও ১৫ দিন বাড়িয়েছে। ইতালির সমাজতন্ত্রী আইনপ্রণেতা সান্দ্রো রুওতোলোর অভিযোগ, লাম্পেদুসার ক্ষেত্রে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি সংহতির আহ্বান জানালেও সেউতার ঘটনায় তিনি তা অস্বীকার করছেন।
চলতি মাসের শুরুতে ফাঁস হওয়া স্পেনের পুলিশের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিবাসীদের সেউতার দিকে ঠেলে দেওয়ার ঘটনায় মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা ছিল বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এর পর সানচেজ সরকারের ওপর চাপ আরও বেড়েছে এবং ইপিপির সমালোচনাও জোরালো হয়েছে।
বিতর্কে স্পেনের আইনপ্রণেতা দোলোরেস মন্তসেরাত বলেন, গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনসহ একাধিক সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও সানচেজ বিষয়টি জানতেন এবং পরে ২৫ দিনের ছুটিতে চলে যান।
এ ছাড়া অনিবন্ধিত অভিবাসীদের বৈধতা দেওয়ার স্পেন সরকারের পরিকল্পনাও ইপিপির সমালোচনার মুখে পড়ে। যদিও এই পরিকল্পনার সঙ্গে সেউতা সংকটের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।
অভিবাসন ইস্যুতে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বিভক্তি শুধু ইপিপি ও সমাজতন্ত্রীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। কট্টর ডান ও কট্টর বামপন্থী আইনপ্রণেতারাও উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডায় জড়ান।
পোদেমোসের আইনপ্রণেতা ইসাবেল সেররা সানচেজ কট্টর ডানপন্থীদের বিরুদ্ধে সেউতাকে ‘বিদ্বেষের পরীক্ষাগার’ বানানোর অভিযোগ তোলেন। জবাবে স্পেনের জাতীয়তাবাদী দল ‘দ্য পার্টি ইজ ওভার’-এর আইনপ্রণেতা দিয়েগো সোলিয়ের অভিবাসীদের বিরুদ্ধে নারীদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
এ সময় ভক্সের আইনপ্রণেতা হোর্হে বুসাদে ভিয়ালবা এক গ্রিন আইনপ্রণেতার বক্তব্যের সময় চিৎকার করে ওঠেন।
অন্যদিকে, স্বতন্ত্র আইনপ্রণেতা আলভিসে পেরেজ দাবি করেন, বামপন্থী আইনপ্রণেতারা তাঁকে অপমান করেছেন। পরে বামপন্থী দলের আইনপ্রণেতা ইরেনে মন্তেরোকে আগে অপমান করার জন্য তাঁকে ভর্ৎসনা করা হয়।
অনিয়মিত অভিবাসীদের মাধ্যমে ইউরোপ ‘আগ্রাসনের’ শিকার হচ্ছে—এমন বক্তব্য দেওয়ার পর লিগ দলের আইনপ্রণেতা সুসান্না চেচ্চারদিকে পাল্টা প্রশ্ন করেন সুইডেনের উদারপন্থী আইনপ্রণেতা আবির আল-সাহলানি। তিনি সরাসরি জানতে চান, ‘আপনি কি জানেন সেউতা কোথায়?’
আগামী বৃহস্পতিবার সেউতা ইস্যুতে একটি প্রস্তাবের ওপর ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে প্রস্তাবটির সংশোধনী নিয়ে ইপিপি ও সমাজতন্ত্রীদের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন আরও বাড়তে পারে।
এদিকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডেয়ার লাইনের আগামী দিনের ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণেও অভিবাসন ইস্যু গুরুত্ব পেতে পারে। সেখানে আশ্রয়ের অধিকার আরও সীমিত করার পাশাপাশি ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থা ফ্রন্টেক্সের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাব আসতে পারে।
