ইউরোপজুড়ে অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতির প্রবাহ চললেও স্পেন তার উল্টো পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মঙ্গলবার স্পেনের সমাজতান্ত্রিক সরকার ঘোষণা করেছে যে, দেশটিতে অনিয়মিতভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকরা এখন থেকে রাষ্ট্রীয় বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার আইনি অধিকার পাবেন। সরকারের এই সাহসী পদক্ষেপকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অভিবাসন নীতির সম্পূর্ণ বিপরীত একটি শক্তিশালী অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সিদ্ধান্তের মূল দিকগুলো:
বার্ধক্যজনিত সমস্যা মোকাবিলা: প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেস মনে করেন, অভিবাসীরা স্পেনের কর্মস্থলের ঘাটতি পূরণ করবেন এবং বার্ধক্যজনিত জনসংখ্যার ভারসাম্য রক্ষা করে পেনশন ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল রাখবেন।
রাজকীয় ডিক্রি: সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় সরকার ‘রাজকীয় ডিক্রি’র মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে। এর ফলে স্পেনের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যমান আলাদা আলাদা নিয়ম বাতিল হয়ে পুরো দেশে একই মানের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হবে।
বিশাল সংখ্যক সুবিধাভোগী: প্রায় ৫ লাখ অনিয়মিত অভিবাসী, যারা ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে স্পেনে এসেছেন এবং অন্তত পাঁচ মাস বসবাস করছেন, তারা এই সুবিধার আওতায় কাজের অনুমতিও পাবেন।
বিশেষ অগ্রাধিকার: শিশু, অন্তঃসত্ত্বা নারী, যৌন সহিংসতা বা পাচারের শিকার ব্যক্তি এবং রাষ্ট্রহীন আবেদনকারীদের কোনো শর্ত ছাড়াই তাৎক্ষণিক সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া অবিবাহিত বিদেশি নারীদের গর্ভপাতের অধিকারকেও এই ডিক্রিতে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোনিকা গার্সিয়া এই পদক্ষেপকে ‘ঘৃণার জোয়ারের মুখে মানবিকতার জয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তবে স্পেনের ডানপন্থী দলগুলো এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, এই সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা ও কাজের সুযোগ অনিয়মিত অভিবাসনকে আরও বেশি উৎসাহিত করবে এবং সীমান্তে চাপ বাড়াবে।
আবেদনের সাথে সাথেই একটি অস্থায়ী নথি সক্রিয় হবে যা প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করবে। সর্বোচ্চ তিন মাসের মধ্যে আবেদনের চূড়ান্ত সমাধান করা হবে। যদি নির্দিষ্ট সময়ে কোনো উত্তর না আসে, তবে ‘প্রশাসনিক নীরবতা’র মাধ্যমে আবেদনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে গৃহীত বলে গণ্য হবে।
