শনিবার, ৯ই মে, ২০২৬   |   ২৬শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হান্টাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কবলে পড়া ডাচ পতাকাবাহী প্রমোদতরি ‘এমভি হোন্ডিয়াস’ (MV Hondius) আগামীকাল রবিবার ভোরে স্পেনের তেনেরিফ দ্বীপে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। জাহাজটিতে থাকা ১৪০ জন যাত্রী ও ক্রুকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। স্পেনের জরুরি পরিষেবা প্রধান ভার্জিনিয়া বারকোনস জানিয়েছেন, জাহাজটি বন্দরে ভেড়ার পর যাত্রীদের একটি ‘সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন এবং ঘেরা এলাকায়’ নিয়ে যাওয়া হবে। এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়া সরাসরি পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয় করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস স্বয়ং দ্বীপে উপস্থিত থাকবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

আর্জেন্টিনা থেকে যাত্রা শুরু করা এই প্রমোদতরিতে এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং জাহাজ থেকে আগেই নেমে যাওয়া ৫ জন যাত্রীর শরীরে এই ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। যদিও জাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থা ‘ওশানওয়াইড এক্সপিডিশনস’ জানিয়েছে যে বর্তমানে জাহাজে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে নতুন করে কোনো সংক্রমণের লক্ষণ নেই, তবুও বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পুনরায় আশ্বস্ত করেছে যে সাধারণ মানুষের জন্য এই ভাইরাসের ঝুঁকি অনেক কম। তবে এবারের প্রাদুর্ভাবে ‘আন্দিজ ভাইরাস’ শনাক্ত হওয়ায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, কারণ এই নির্দিষ্ট স্ট্রেইনটি বিরল ক্ষেত্রে মানুষের মাধ্যমে অন্য মানুষের শরীরে ছড়াতে পারে।

এদিকে জাহাজটির আগমনকে কেন্দ্র করে তেনেরিফ দ্বীপে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ‘ইউস্তিতিয়া ইউরোপা’ নামক একটি স্প্যানিশ গোষ্ঠী জাহাজটিকে স্পেনের উপকূলে ভিড়তে দেওয়ার তীব্র বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, জননিরাপত্তার খাতিরে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জকে যেন কোনোভাবেই ‘স্বাস্থ্য গবেষণাগার’ হিসেবে ব্যবহার করা না হয়। অন্যদিকে, গত ২ মে প্রাদুর্ভাব শনাক্ত হওয়ার আগে যারা জাহাজ থেকে নেমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফিরে গেছেন, তাদের খুঁজে বের করে পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় ধরনের কন্টাক্ট ট্রেসিং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তথ্যসূত্র: আলজাজিরা 

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version