বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬   |   ২৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ প্রণালি ক্রমাগত আংশিকভাবে বন্ধ থাকার জেরে জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের চড়া দামের কারণে স্পেনে টানা পাঁচ মাস ধরে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ৩ শতাংশের ওপরে রয়েছে। গত জুলাইয়ে বিদ্যুতের দাম প্রতি মেগাওয়াট ঘণ্টায় ১০০ ইউরো ছাড়িয়েছে, যা ২০২২ সালের পর থেকে বছরের ব্যবধানে সর্বোচ্চ রেকর্ড।

আবাসনের পর স্পেনের নাগরিকদের দ্বিতীয় বৃহত্তম উদ্বেগের বিষয় হলো দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, যা ন্যাশনাল পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউট (আইএনই)-এর প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ক্রমাগত অবনতির দিকে যাচ্ছে। সংস্থাটির পরিসংখ্যান তাদের জুলাইয়ের পূর্বাভাসকে আরও এক-দশমাংশ কমিয়ে দিয়েছে এবং নিশ্চিত করেছে যে এই মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩.৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এটি ২০২৪ সালের মে মাসের পর থেকে রেকর্ড করা সবচেয়ে খারাপ পরিসংখ্যান।

এ নিয়ে টানা পাঁচ মাস ধরে দেশটির বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ৩ পয়েন্টের ওপরে রয়েছে এবং এই মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির পেছনে একটি স্পষ্ট কারণ রয়েছে: জ্বালানি সংকট এবং বিদ্যুতের চড়া দাম। গ্রীষ্মের তীব্র গরম এবং একের পর এক তাপপ্রবাহের কারণে গ্রাহকদের বিদ্যুতের উচ্চ চাহিদার মাসেই এই চড়া মূল্যস্ফীতি দেখা গেছে, যা মানুষের বিদ্যুৎ বিল আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

গত জুলাই মাসে বিদ্যুতের দাম প্রতি মেগাওয়াট ঘণ্টায় প্রায় ১০৫ ইউরোতে ঘোরাফেরা করছিল: যা ২০২২ সালের একই মাসের পর বছরের ব্যবধানে সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি। সে সময় ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের কারণে ইউরোপীয় জ্বালানি সরবরাহের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছিল। এর ছয় বছর পর, বর্তমানে লোহিত সাগর এবং বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে আংশিক অবরোধের কারণে জ্বালানির বাজারে এই অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে।

কার্লোস কুয়ের্পো-র নেতৃত্বাধীন দেশটির অর্থনীতি মন্ত্রণালয় ঘোষণা করেছে যে, গত মাসে ডিজেলের দাম বৃদ্ধি ১৫ শতাংশের চেয়ে আরও শূন্য-দশমিক সাত পয়েন্ট ছাড়িয়ে যাওয়ায় হাইড্রোকার্বন বা জ্বালানি করের ওপর একটি স্বয়ংক্রিয় ছাড় সক্রিয় করা হয়েছে। এর ফলে প্রতি লিটার ডিজেল ব্যবহারের ক্ষেত্রে ৫ সেন্টের পরিবর্তে ২০ সেন্ট শুল্ক বাদ দেওয়া বা ছাড় দেওয়া হবে।

ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি বোমাবর্ষণের ফলে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া সাড়াদান পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে ক্ষমতাসীন পিএসওই দলের বামপন্থী দলগুলো এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের দাবি, তেল বিতরণকারী কোম্পানিগুলো এই ছাড়ের সম্পূর্ণ সুবিধা সাধারণ গ্রাহকদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না।

তবে স্বস্তির খবর হলো, গত জুলাইয়ে সাধারণ মানুষের বাজারের গড় খরচ বা শপিং বাস্কেটের ব্যয় শূন্য-দশমিক তিন পয়েন্ট কমেছে।

অর্থনীতি মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে, ‘মূল্যস্ফীতির চাপ খাদ্যপণ্যের ওপর পড়েনি, যেখানে বার্ষিক হার ছিল ১.৬ শতাংশ, যা জুনের হারের চেয়ে শূন্য-দশমিক তিন পয়েন্ট কম এবং এটি ২০২১ সালের পর থেকে সর্বনিম্ন।’ অর্থাৎ সামগ্রিক দাম এখনও বাড়ছে, তবে তা কিছুটা ধীর গতিতে। গ্রীষ্মকালীন ছাড়ের (সামার সেলস) কারণে টেক্সটাইল বা পোশাকের পাশাপাশি বিশেষ করে ফলমূল, শাকসবজি এবং ডাল জাতীয় শস্যের দাম অনেকটাই কমেছে।

ইউরোনিউজ

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version