শনিবার, ৭ই মার্চ, ২০২৬   |   ২৩শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের টেনেরাইফে নাবালক অভিবাসীদের একটি কেন্দ্রে ভয়াবহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে তিন প্রাক্তন কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বিতর্কিত এনজিও ‘কোরাম সোশ্যাল ৭৭’ পরিচালিত এই কেন্দ্রটিতে বর্তমানে প্রায় ১৩০ জন নাবালক বসবাস করছে। মঙ্গলবার পুলিশের বিশেষ অভিযানে এই গ্রেফতারি ও তল্লাশি চালানো হয়।

তদন্তে এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যম EL PAÍS-এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে গা শিউরে ওঠা সব তথ্য। দ্বীপের অভিবাসী কিশোরদের কাছে এই কেন্দ্রটি ছিল একটি আতঙ্কের নাম।

ভয় দেখানোর হাতিয়ার: অন্যান্য সেন্টারের কিশোরদের বলা হতো, “বেশি বাড়াবাড়ি করলে তোমাদের টেনেরাইফের সেন্টারে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।” অর্থাৎ, এটিকে একটি শাস্তিমূলক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হতো।

টার্চার সেল: টেনেরাইফের এই সেন্টারের ‘৫০১ নম্বর রুম’ ছিল এক টর্চার সেল। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে পেশিবহুল কর্মীরা নাবালকদের আইসোলেশনে রেখে মারধর করত।

মানবাধিকার লঙ্ঘন: ভুক্তভোগী এক গাম্বিয়ান কিশোর জানায়, সেখানে তাদের মোবাইল কেড়ে নেওয়া হতো এবং ২৪ ঘণ্টা কড়া পাহারায় রাখা হতো। এমনকি খাবারও দেওয়া হতো বিছানায়, যেখানে তাদের সারাদিন শুয়ে থাকতে বাধ্য করা হতো।

তদন্তে জানা গেছে, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ‘কোরাম সোশ্যাল ৭৭’ সংস্থাটি সরকারি তহবিল থেকে ১৫০ মিলিয়ন ইউরোরও (প্রায় ১,৯০০ কোটি টাকা) বেশি অর্থ পেয়েছে। দ্বীপপুঞ্জের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নাবালকের দেখাশোনার দায়িত্বে ছিল তারা। বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ পাওয়ার পরও নাবালকদের সাথে এই অমানবিক আচরণের বিষয়টি এখন জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের উচ্চ আদালত জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে নৈতিক সততা লঙ্ঘন, ঘৃণা ছড়ানো, হুমকি এবং স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর আগে গত বছর এই একই এনজিওর অধীনে থাকা আরও দুটি কেন্দ্র (ফর্তালেজা-১ এবং আরিনাগা) একই ধরণের অভিযোগের কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

ক্যানারি সরকারের শিশু সুরক্ষা বিভাগের পরিচালক সান্দ্রা রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, অভিযুক্ত কর্মীরা এখন আর ওই কেন্দ্রে নেই এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে চূড়ান্ত রায়ের আগে সংস্থাটির সাথে চুক্তি বাতিল করার বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version