বৃহস্পতিবার, ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬   |   ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুইডেন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান খালেদা জিয়া মেমোরিয়াল ইনস্টিটিউট। যার লক্ষ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার জীবন, রাজনৈতিক দর্শন ও রাষ্ট্রনায়কসুলভ ভূমিকা নিয়ে গবেষণা ও প্রামাণ্য কাজ পরিচালনা করা।

ইনস্টিটিউটের যাত্রা শুরুর প্রেক্ষাপটে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু উপলক্ষে গত রোববার (৪ জানুয়ারি) সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমের একটি অডিটোরিয়ামে শোকসভা, দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন স্তরের মানুষ অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্টকহোমে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাননীয় রাষ্ট্রদূত ওয়াহিদা আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাউন্সিলর রেহানা পারভিন এবং দূতাবাসের প্রথম সচিব নিজাম উদ্দিন। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খালেদা জিয়া মেমোরিয়াল ইনস্টিটিউটের উদ্যোক্তাদের মধ্যে শাহাদাত হোসেন কাইজার, পাপেল খান ও রাইসুল হকসহ প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজের বিভিন্ন প্রতিনিধি।

শোকসভা শুরু হয় বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়ার মধ্য দিয়ে। পরে আলোচনা সভায় বক্তারা তাঁর রাজনৈতিক জীবন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ভূমিকা এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করেন। বক্তারা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে একজন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রনায়ক, যাঁর নেতৃত্ব ও সংগ্রাম দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা রেখেছে। সামরিক শাসনের পর দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, বহুদলীয় রাজনীতির বিকাশ এবং সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। তাঁর নেতৃত্বগুণ, রাজনৈতিক দৃঢ়তা ও সংগ্রামী জীবনের নানা দিক আলোচনায় উঠে আসে।

খালেদা জিয়া মেমোরিয়াল ইনস্টিটিউটের অন্যতম উদ্যোক্তা প্রধান শাহাদাত হোসেন কাইজার নোটিসিয়াস বাংলাকে জানান, বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও রাজনৈতিক দর্শন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এই গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, “এই ইনস্টিটিউট গবেষণা, প্রকাশনা ও বুদ্ধিবৃত্তিক কার্যক্রমের মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক আদর্শ ও চিন্তাধারাকে সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ করবে। ইউরোপে এ ধরনের উদ্যোগ এটিই প্রথম।”

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত ওয়াহিদা আহমেদ বলেন, এই গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি তাঁর রাজনৈতিক আদর্শ ও নেতৃত্বকে আরও গভীরভাবে জানার সুযোগ তৈরি করবে। তিনি বলেন, ইতিহাস ও নেতৃত্বকে গবেষণার মাধ্যমে সংরক্ষণ করা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে উপস্থিত অতিথিরা একটি শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। শোকসভা ও আলোচনা সভায় বক্তাদের বক্তব্যে বারবার উঠে আসে তাঁর রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে মর্যাদা, রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তাঁর বহুমাত্রিক প্রভাবের কথা।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version